কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শুক্রবার মধ্যরাতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিন দিন আগে মঙ্গলবার ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত তাঁকে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পাকিস্তান সরকার এই নির্দেশনা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এতে সম্মতি দেয়নি। এরপর শুক্রবার রাতে ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে পার্লামেন্টবিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেছিলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পুরোপুরি মেনে চলবে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা বেশ কিছুদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। আগস্টের শুরুতে করা এক পরীক্ষায় তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে। তাঁর রক্তচাপ ওঠানামা করছে বলেও পরীক্ষায় জানা যায়।
ওই পরীক্ষায় তাঁর মধ্যে অস্থিরতা ও আতঙ্কের বিষয়টিও উঠে আসে। ইমরানের আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, কারাগারে তাঁকে একা রাখার কারণে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা গত বছর থেকেই তাঁর চোখের সমস্যা নিয়েও কথা বলে আসছেন।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাসপাতালে কয়েক শ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
২০২২ সালের আগস্টে অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করে শেহবাজ শরিফের সরকার। এসব মামলার কয়েকটিতে তাঁর সাজাও হয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন ইমরান খান। ওই সময় সরকারি পণ্য বিক্রির অভিযোগে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিকেও বিভিন্ন মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনিও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা