কলকাতার মুসলিম কলোনিতে মাসখানেক ধরে পানির হাহাকার, কেন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
কলকাতার মুসলিম কলোনিতে মাসখানেক ধরে পানির হাহাকার, কেন?.
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ। গত ২৯ জুলাই রাত থেকে কলোনির পাঁচটি রাস্তার কল দিয়ে পানি আসছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেও পরে তা চালু হয়েছে। তবে পানির সংকট কাটেনি।এতে প্রায় ৫০০ পরিবারের সাড়ে তিন হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। পানির জন্য এখন কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) কাছ থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনতে হচ্ছে। অনেকে হুগলি নদীর পানি ব্যবহার করছেন।কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই কলোনিতে অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লা পাড়া’ বা ‘মুসলিম কলোনি’ নামে পরিচিত। প্রায় ছয় দশক ধরে এখানে মানুষের বসবাস।পানি বন্ধের অভিযোগবাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি সরবরাহ বন্ধের পেছনে স্থানীয় বিজেপির বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে জেতার পর এক সভায় তিওয়ারি বলেছিলেন, মুসলিমরা তাঁকে ভোট দেননি। তাই আগামী পাঁচ বছর তিনি তাঁদের জন্য কোনো কাজ করবেন না।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সুমন সিং এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।পানি বন্ধের বিষয়টি নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তাঁদের কলোনির পানির কলগুলো বন্ধ থাকলেও একই সড়কের পাশে থাকা হিন্দুপ্রধান কলোনিগুলোতে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।মেরামতের পরই বন্ধ পানিবাসিন্দারা জানান, গত ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা কলোনির পানির পাইপলাইন মেরামত করতে আসেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত কাজ চলে। সেদিন পানি সরবরাহও ছিল।তবে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন বাসিন্দারা পুরনিগমের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাঁরা কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি।স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বিশ্বাস বলেন, পানি বন্ধের পর তাঁরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পানি বন্ধের পরদিন কলোনির রাস্তার আলো ও বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে রাস্তার আলো আবার জ্বলে। পানি সরবরাহ অবশ্য চালু হয়নি।নদীর পানি ব্যবহারপানি না থাকায় কলোনির বাসিন্দাদের অনেকে হুগলি নদীর পানি ব্যবহার করছেন। এতে ঝুঁকিও বাড়ছে।এক বাসিন্দা বলেন, শিশুরা মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে যাচ্ছে। অনেকে নদীতে গোসল করতে বাধ্য হচ্ছেন। কয়েকজন অল্পের জন্য পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সাঁতার না জানা মানুষও নদীতে নামছেন।কলোনির একটি মসজিদেও পানির সংকটের প্রভাব পড়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি না থাকায় নামাজের আগে অজু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।শেখ মইনউদ্দিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, নদীর দূষিত পানি ব্যবহার শুরুর পর অনেক শিশুর জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঘাটের কাদা ও পিচ্ছিল ধাপে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন।বয়স্ক ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। দৈনন্দিন কাজ ও গোসলের জন্য তাঁদেরও নদীর ঘাটে যেতে হচ্ছে।স্কুলেও প্রভাবপানির সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। ইসমা খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রী জানায়, পানির সমস্যার কারণে সে স্কুলে যেতে পারছে না।তার ভাষ্য, পরীক্ষার সময় এই সংকট শুরু হওয়ায় পড়াশোনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কলোনির বস্তির স্কুলটিতেও পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।নিম্ন আয়ের মানুষের বসতিজ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দা নিম্ন আয়ের মানুষ। তাঁদের অনেকে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ কেউ বোতল গলানোর কারখানায় নামমাত্র মজুরিতে কাজ করেন।সরস্বতী বিশ্বাস নামে এক বাসিন্দা বলেন, বহু বছর ধরে হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একসঙ্গে বসবাস করছেন। তবে পানির মতো এমন সংকটে আগে কখনো পড়তে হয়নি।দীর্ঘদিন পানি না থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছেদের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত পানি সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ। গত ২৯ জুলাই রাত থেকে কলোনির পাঁচটি রাস্তার কল দিয়ে পানি আসছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেও পরে তা চালু হয়েছে। তবে পানির সংকট কাটেনি।
এতে প্রায় ৫০০ পরিবারের সাড়ে তিন হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। পানির জন্য এখন কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) কাছ থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনতে হচ্ছে। অনেকে হুগলি নদীর পানি ব্যবহার করছেন।
কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই কলোনিতে অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘মোল্লা পাড়া’ বা ‘মুসলিম কলোনি’ নামে পরিচিত। প্রায় ছয় দশক ধরে এখানে মানুষের বসবাস।
পানি বন্ধের অভিযোগ
বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি সরবরাহ বন্ধের পেছনে স্থানীয় বিজেপির বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে জেতার পর এক সভায় তিওয়ারি বলেছিলেন, মুসলিমরা তাঁকে ভোট দেননি। তাই আগামী পাঁচ বছর তিনি তাঁদের জন্য কোনো কাজ করবেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সুমন সিং এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
পানি বন্ধের বিষয়টি নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তাঁদের কলোনির পানির কলগুলো বন্ধ থাকলেও একই সড়কের পাশে থাকা হিন্দুপ্রধান কলোনিগুলোতে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
মেরামতের পরই বন্ধ পানি
বাসিন্দারা জানান, গত ২৭ জুলাই কেএমসির কর্মীরা কলোনির পানির পাইপলাইন মেরামত করতে আসেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত কাজ চলে। সেদিন পানি সরবরাহও ছিল।
তবে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন বাসিন্দারা পুরনিগমের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাঁরা কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বিশ্বাস বলেন, পানি বন্ধের পর তাঁরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পানি বন্ধের পরদিন কলোনির রাস্তার আলো ও বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে রাস্তার আলো আবার জ্বলে। পানি সরবরাহ অবশ্য চালু হয়নি।
নদীর পানি ব্যবহার
পানি না থাকায় কলোনির বাসিন্দাদের অনেকে হুগলি নদীর পানি ব্যবহার করছেন। এতে ঝুঁকিও বাড়ছে।
এক বাসিন্দা বলেন, শিশুরা মুখ ধোয়ার জন্য ঘাটে যাচ্ছে। অনেকে নদীতে গোসল করতে বাধ্য হচ্ছেন। কয়েকজন অল্পের জন্য পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সাঁতার না জানা মানুষও নদীতে নামছেন।
কলোনির একটি মসজিদেও পানির সংকটের প্রভাব পড়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি না থাকায় নামাজের আগে অজু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
শেখ মইনউদ্দিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, নদীর দূষিত পানি ব্যবহার শুরুর পর অনেক শিশুর জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঘাটের কাদা ও পিচ্ছিল ধাপে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন।
বয়স্ক ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। দৈনন্দিন কাজ ও গোসলের জন্য তাঁদেরও নদীর ঘাটে যেতে হচ্ছে।
স্কুলেও প্রভাব
পানির সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। ইসমা খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রী জানায়, পানির সমস্যার কারণে সে স্কুলে যেতে পারছে না।
তার ভাষ্য, পরীক্ষার সময় এই সংকট শুরু হওয়ায় পড়াশোনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কলোনির বস্তির স্কুলটিতেও পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি।
নিম্ন আয়ের মানুষের বসতি
জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দা নিম্ন আয়ের মানুষ। তাঁদের অনেকে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ কেউ বোতল গলানোর কারখানায় নামমাত্র মজুরিতে কাজ করেন।
সরস্বতী বিশ্বাস নামে এক বাসিন্দা বলেন, বহু বছর ধরে হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একসঙ্গে বসবাস করছেন। তবে পানির মতো এমন সংকটে আগে কখনো পড়তে হয়নি।
দীর্ঘদিন পানি না থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছেদের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত পানি সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন।