যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প.
আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানে আরও মার্কিন হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হবে।’ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি বিলম্বিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি।ইরানের কৌশল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তারা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে মরিয়া। এর মাধ্যমে কংগ্রেসে ‘দুর্বল’ একটি গোষ্ঠীকে আনতে চায় ইরান।ট্রাম্পের দাবি, ইরান ডেমোক্র্যাটদের ওপর ভরসা করছে। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির একমাত্র লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। ইরানের হাতে এমন অস্ত্র গেলে পুরো বিশ্ব বিপদের মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে হামলার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্প ও তাঁর কর্মকর্তারা তখন দাবি করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ‘আসন্ন’ হুমকি তৈরি করেছে।তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। তবে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। গত ছয় মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনায় বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। জেসিপিওএ নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পরিমাণ সীমিত করা হয়েছিল।বুধবার ট্রাম্পকে আবার ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়।ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও অনেক বেশি কিছু’ করছেন। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার নয় বলেও জানান তিনি।ট্রাম্প বলেন, শুরুতে তিনি একটি চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, ইরানের ‘খুব সামান্য দেশই’ এখন অবশিষ্ট রয়েছে।আরও হামলার ইঙ্গিতট্রাম্পের বক্তব্যের আগে সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবিসি নিউজকে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি ‘নাও হতে পারে’।রাইটের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যেতে পারে।২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘ধ্বংস করে দিয়েছে’।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোয়নি। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনও সংঘাতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে।যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তাও কমেছে। গত মাসের এক জরিপে দেখা যায়, ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সংঘাতটিকে সমর্থন করেন। মার্চে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ।এদিকে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে এই হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে।গতকাল ইরানে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা আরও অনেক কিছু দেখতে যাচ্ছেন।’
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানে আরও মার্কিন হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হবে।’
ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি বিলম্বিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি।
ইরানের কৌশল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তারা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে মরিয়া। এর মাধ্যমে কংগ্রেসে ‘দুর্বল’ একটি গোষ্ঠীকে আনতে চায় ইরান।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান ডেমোক্র্যাটদের ওপর ভরসা করছে। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির একমাত্র লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। ইরানের হাতে এমন অস্ত্র গেলে পুরো বিশ্ব বিপদের মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে হামলার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্প ও তাঁর কর্মকর্তারা তখন দাবি করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ‘আসন্ন’ হুমকি তৈরি করেছে।
তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। তবে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। গত ছয় মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনায় বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। জেসিপিওএ নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পরিমাণ সীমিত করা হয়েছিল।
বুধবার ট্রাম্পকে আবার ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়।
ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও অনেক বেশি কিছু’ করছেন। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার নয় বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, শুরুতে তিনি একটি চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, ইরানের ‘খুব সামান্য দেশই’ এখন অবশিষ্ট রয়েছে।
আরও হামলার ইঙ্গিত
ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবিসি নিউজকে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি ‘নাও হতে পারে’।
রাইটের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যেতে পারে।
২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘ধ্বংস করে দিয়েছে’।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোয়নি। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনও সংঘাতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তাও কমেছে। গত মাসের এক জরিপে দেখা যায়, ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সংঘাতটিকে সমর্থন করেন। মার্চে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ।
এদিকে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে এই হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল ইরানে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা আরও অনেক কিছু দেখতে যাচ্ছেন।’