অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বিভিন্ন হামলা ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। ইরানের এই দাবিকে ‘আকর্ষণীয় ধারণা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে।
ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্প তাঁর দাবির পক্ষে ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনের এডেন বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ হামলার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ১৭ মার্কিন নাবিক নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করেছিল।
এ ছাড়া বিভিন্ন হামলা ও সংঘাতে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্যও ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানান ট্রাম্প। এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলেইমানির নেতৃত্বের বিষয়টিও যুক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানে বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং সাম্প্রতিক পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিহত ৫২ হাজার মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার দাবি জানাবেন তিনি।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান কিছুটা নমনীয় করছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার দিকে যুক্তরাষ্ট্র বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
অন্যদিকে, শান্তি বা ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ইরানও কয়েকটি শর্ত জানিয়েছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুনরায় খুলবে না।
ইরান আরও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।
এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আঞ্চলিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হলে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।