হুথিদের কাছ থেকে সানা উদ্ধারে ইয়েমেনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
হুথিদের কাছ থেকে সানা উদ্ধারে ইয়েমেনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত.
টানা কয়েক দিন সংঘাতের পর হুথি বিদ্রোহীদের দখল থেকে রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।গতকাল সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি এ ঘোষণা দেন।রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ইয়েমেন টিভিতে দেওয়া ভাষণে সামির আল-সাবরি বলেন, ‘সানা পুনরুদ্ধার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সামনে অনেক চমক আছে; এখনই আমরা সেসব প্রকাশ করছি না।’একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে একই তথ্য জানান ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল নুজাইলি।তিনি বলেন, ‘আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন—সন্ত্রাসী হুথি বিদ্রোহীদের কবল থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে সকল ইয়েমেনবাসীর রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’সরকারের এই লক্ষ্য পূরণে দেশের সব শ্রেণির নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নুজাইলি। তিনি বলেন, সব ইয়েমেনবাসীই ভবিষ্যতের অংশীদার। প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই। একই জাতির নাগরিকদের মধ্যেও কোনো বৈষম্য করা হবে না।সানা হুথিদের দখলে২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর এক বছরের মধ্যে, ২০১৫ সালে, ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে।রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সেনাবাহিনী।বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এই কাউন্সিলের অনুগত। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।প্রায় আট বছর যুদ্ধের পর ২০২২ সাল থেকে হুথি ও প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের মধ্যে একধরনের অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চলছে।গাজা যুদ্ধের পর সংঘাতে হুথি২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে হুথিরা। ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে তারা হামলা শুরু করে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার আগের মতো হুথিদের সহায়তা দিতে পারছে না।এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলে গত জুলাই থেকে নতুন উদ্যমে অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
টানা কয়েক দিন সংঘাতের পর হুথি বিদ্রোহীদের দখল থেকে রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।
গতকাল সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি এ ঘোষণা দেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ইয়েমেন টিভিতে দেওয়া ভাষণে সামির আল-সাবরি বলেন, ‘সানা পুনরুদ্ধার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সামনে অনেক চমক আছে; এখনই আমরা সেসব প্রকাশ করছি না।’
একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে একই তথ্য জানান ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল নুজাইলি।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন—সন্ত্রাসী হুথি বিদ্রোহীদের কবল থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে সকল ইয়েমেনবাসীর রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’
সরকারের এই লক্ষ্য পূরণে দেশের সব শ্রেণির নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নুজাইলি। তিনি বলেন, সব ইয়েমেনবাসীই ভবিষ্যতের অংশীদার। প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই। একই জাতির নাগরিকদের মধ্যেও কোনো বৈষম্য করা হবে না।
সানা হুথিদের দখলে
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর এক বছরের মধ্যে, ২০১৫ সালে, ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে।
রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সেনাবাহিনী।
বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এই কাউন্সিলের অনুগত। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
প্রায় আট বছর যুদ্ধের পর ২০২২ সাল থেকে হুথি ও প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের মধ্যে একধরনের অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চলছে।
গাজা যুদ্ধের পর সংঘাতে হুথি
২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে হুথিরা। ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে তারা হামলা শুরু করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার আগের মতো হুথিদের সহায়তা দিতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলে গত জুলাই থেকে নতুন উদ্যমে অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।