রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

বাব আল-মানদেব নিয়ে কি সৌদিকে একা করছে যুক্তরাষ্ট্র

বাব আল-মানদেব নিয়ে কি সৌদিকে একা করছে যুক্তরাষ্ট্র
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তায় ওয়াশিংটন আগের মতো সামরিক প্রতিশ্রুতি দিতে চাইছে না।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলাইমান আল-আকিলি প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কি বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে? এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ‘নিরাপত্তার বিনিময়ে তেল’ সমীকরণেও কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে?

এটি অবশ্য বিশ্লেষকের মতামত। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাব আল-মানদেব ঘিরে হুতিদের অবস্থান যে শক্তিশালী হয়েছে, তা রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের ধুবাব ও কৌশলগত মোখা এলাকায় অগ্রসর হওয়ার পর বাব আল-মানদেবের মুখে অবস্থিত পেরিম বা মায়ুন দ্বীপেও পৌঁছেছে বলে ইয়েমেনি সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন প্রশ্ন

১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না। তারা মার্কিন জাহাজ চলাচলেও বাধা দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে সমাধান হবে বলেও আশাবাদ জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময় ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা দ্রুত এগোচ্ছিল। ধুবাব ও পেরিম দ্বীপে তাদের উপস্থিতি বাব আল-মানদেবের ওপর প্রভাব বাড়িয়েছে। পেরিম দ্বীপটি প্রণালির মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের এই অগ্রগতি বাব আল-মানদেবের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌযানকে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিও নতুন ঝুঁকিতে পড়েছে।

হরমুজে ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা

বিশ্লেষণটির অন্যতম যুক্তি হলো, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খুলতে ওয়াশিংটন অনাগ্রহী।

হরমুজে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা কিছু জাহাজ এই হিসাবে বাদ পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও মনোযোগের বড় অংশ হরমুজকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে—এমন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সময়ে বাব আল-মানদেবেও বড় ধরনের অভিযান চালালে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

সৌদির জন্য দ্বিমুখী চাপ

বাব আল-মানদেব সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে সৌদি আরবের ওপর। একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে হুতিদের অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন নতুন ঝুঁকিতে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে যায়। এটি তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। হুতি-সংশ্লিষ্ট হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের কারণে এই পতন হয়েছে বলে আইইএ জানিয়েছে।

এর পাশাপাশি সৌদির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হামলার পর পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

অর্থাৎ হরমুজ ও বাব আল-মানদেব—দুই দিক থেকেই সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহন চাপের মধ্যে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তন?

১৯৭০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি ছিল নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহকে ঘিরে পারস্পরিক নির্ভরতা। ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিবহনপথ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, আর উপসাগরীয় দেশগুলো বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখবে—এমন একটি অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর কথা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষক সুলাইমান আল-আকিলির মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই পুরোনো সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি সমন্বিত ছাতা দেওয়ার বদলে সরাসরি মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ অবসান বলা যাচ্ছে না। মার্কিন বাহিনী এখনও মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয়। সৌদি আরবের সঙ্গেও সামরিক সমন্বয় চলছে।

১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বৈঠক হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প সৌদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার অনুমোদন দেননি। তবে ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য শনাক্তকরণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অর্থাৎ পরিস্থিতিটি সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে ছেড়ে দিয়েছে’—এমন সরল সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে সীমিত সহায়তা ও সমন্বয়ের পথে ওয়াশিংটন এগোচ্ছে—এমন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

সৌদির বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর চেষ্টা

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌদি আরব নিজস্ব ও বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

জুলাইয়ে রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক বৈঠকে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ৪৩টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সৌদি আরবের প্রস্তাবিত এই জোটের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ, নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষা জোরদার করা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ এই উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে রিয়াদ যে একক কোনো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় কাঠামো গড়তে চাইছে, তা স্পষ্ট। এর পাশাপাশি সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিও বৃহত্তর নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

‘নিরাপত্তার বিনিময়ে তেল’ সমীকরণের ভবিষ্যৎ

বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, বাব আল-মানদেব ও হরমুজ—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একই সময়ে অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে পুরোনো ‘নিরাপত্তার বিনিময়ে তেল’ কাঠামো আর আগের মতো কার্যকর নাও থাকতে পারে।

হরমুজ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ। আর বাব আল-মানদেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল। সুয়েজ খালের মাধ্যমে এটি ইউরোপ ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের অংশ। ফলে দুটি পথেই বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে চাপ বাড়তে পারে।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। আইইএর সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমতে পারে।

জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি বাড়ায় ট্যাংকারের ভাড়াও বেড়েছে। একই সময়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

সৌদির নতুন বার্তা—সমুদ্রপথ রক্ষার দায়িত্ব সবার

রিয়াদের সাম্প্রতিক উদ্যোগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ শুধু কোনো একটি দেশের নিরাপত্তা স্বার্থ নয়। এর নিরাপত্তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

সৌদি আরবের প্রস্তাবিত বহুজাতিক সামুদ্রিক জোটের লক্ষ্যও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষা।

এ অবস্থান থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরব শুধু মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে চাইছে।

নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে মধ্যপ্রাচ্য?

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তি নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

চীনও এই সমীকরণের বাইরে নেই। রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য সৌদি আরব চীনের সহায়তা চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলেছে, বেইজিং তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাপ দিয়েছে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই বহুমুখী হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকলেও সৌদি আরব বিকল্প অংশীদারিত্ব ও বহুজাতিক জোটের দিকে এগোচ্ছে। তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। আর চীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

বাব আল-মানদেব এখন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বাব আল-মানদেব শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার একটি সামুদ্রিক প্রবেশপথ নয়। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যপথের সঙ্গেও এর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

এ কারণে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বাব আল-মানদেবকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। মোখা, ধুবাব ও পেরিমের দিকে তাদের অগ্রসর হওয়ার ফলে প্রণালিটির কাছে তাদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।

সব মিলিয়ে বাব আল-মানদেব ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধের আরেকটি অধ্যায় নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্পের অবস্থানকে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বাস্তব সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখছেন। কেউ এটিকে নতুন ধরনের ‘সিলেক্টিভ এনগেজমেন্ট’ নীতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

ফলে প্রশ্নটি শুধু ‘ট্রাম্প কি বাব আল-মানদেব হুতিদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন?’—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়। বড় প্রশ্ন হলো, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো কি ধীরে ধীরে আরও বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও শর্তসাপেক্ষ ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অন্তত সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুরে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

‎ পিরোজপুর প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।