আশ্রয় চাওয়া ২ লাখ প্রার্থীর ভিসা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
আশ্রয় চাওয়া ২ লাখ প্রার্থীর ভিসা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র.
বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা হবে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে গেলে আইনি বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গোপন নথি হাতে পেয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছে তারা।নথি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় দুই লাখের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট বলেছেন, অনেক বিদেশি স্বল্পমেয়াদি অ-অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে সেখানে আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করেন। এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, তা এখনই জানানো হয়নি। পিগোট বলেছেন, প্রক্রিয়াটি চলমান। তাই এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে বি-১ ভিসা দেওয়া হয়। আর পর্যটন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা বা চিকিৎসার মতো কাজে বি-২ ভিসা দেওয়া হয়।২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই দুই ধরনের ভিসায় কতজন বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে কতজন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, সেই সংখ্যাও প্রকাশ করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হলেই আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। অধিকাংশ আবেদনকারীকে নতুন একটি শ্রেণির আওতায় নেওয়া হবে। তবে তাঁরা ব্যবসায়ী বা পর্যটক হিসেবে আগের মর্যাদা হারাবেন।বর্তমানে বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়েও নিশ্চয়তা দিতে হচ্ছে। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নিশ্চয়তাকে কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।২০২৫ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর বিদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়েছে। গত দেড় বছরে হাজার হাজার বিদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। বেড়েছে ভিসার ফি। অনেক দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন পর্যালোচনাও স্থগিত করা হয়েছে।সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয় আবেদনে অতিষ্ঠ। তাঁর মতে, অভিবাসন আইনের ফাঁকফোকর হিসেবে আশ্রয়ের আবেদনকে ব্যবহার করা উচিত নয়।সূত্র: এপি
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা হবে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে গেলে আইনি বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গোপন নথি হাতে পেয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছে তারা।
নথি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় দুই লাখের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট বলেছেন, অনেক বিদেশি স্বল্পমেয়াদি অ-অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে সেখানে আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করেন। এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, তা এখনই জানানো হয়নি। পিগোট বলেছেন, প্রক্রিয়াটি চলমান। তাই এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।
ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে বি-১ ভিসা দেওয়া হয়। আর পর্যটন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা বা চিকিৎসার মতো কাজে বি-২ ভিসা দেওয়া হয়।
২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই দুই ধরনের ভিসায় কতজন বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে কতজন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, সেই সংখ্যাও প্রকাশ করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হলেই আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। অধিকাংশ আবেদনকারীকে নতুন একটি শ্রেণির আওতায় নেওয়া হবে। তবে তাঁরা ব্যবসায়ী বা পর্যটক হিসেবে আগের মর্যাদা হারাবেন।
বর্তমানে বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়েও নিশ্চয়তা দিতে হচ্ছে। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নিশ্চয়তাকে কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২০২৫ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর বিদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়েছে। গত দেড় বছরে হাজার হাজার বিদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। বেড়েছে ভিসার ফি। অনেক দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন পর্যালোচনাও স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয় আবেদনে অতিষ্ঠ। তাঁর মতে, অভিবাসন আইনের ফাঁকফোকর হিসেবে আশ্রয়ের আবেদনকে ব্যবহার করা উচিত নয়।