রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

বিশ্বকাপ ট্রফি ও মেডেল তৈরিতে কেন ১৮ ক্যারেট সোনা ব্যবহার করা হয়?

বিশ্বকাপ ট্রফি ও মেডেল তৈরিতে কেন ১৮ ক্যারেট সোনা ব্যবহার করা হয়?
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
বিশ্বকাপ ট্রফি কিংবা অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পদক, এসবের সঙ্গে সোনার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তবে অনেকেরই ধারণা, এগুলো সম্পূর্ণ খাঁটি ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। বাস্তবে তা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৮ ক্যারেট সোনা বা সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক বেশ কয়েকটি কারণ।

প্রথমত, ২৪ ক্যারেট সোনা অত্যন্ত নরম ধাতু। খাঁটি সোনার বিশুদ্ধতা প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ হলেও এটি সহজেই বাঁকতে, আঁচড় খেতে বা বিকৃত হতে পারে। বিশ্বকাপ ট্রফি কিংবা পদক বারবার হাতে নেওয়া, প্রদর্শন, পরিবহন এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য এমন ধাতু প্রয়োজন, যা একই সঙ্গে আকর্ষণীয় এবং টেকসই। এই কারণেই খাঁটি সোনার পরিবর্তে ১৮ ক্যারেট সোনা বেশি উপযোগী।

১৮ ক্যারেট সোনায় থাকে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা এবং ২৫ শতাংশ অন্যান্য ধাতু, যেমন রুপা, তামা বা প্যালাডিয়াম। এই সংমিশ্রণ সোনাকে অনেক বেশি শক্ত ও স্থায়িত্বশীল করে তোলে। ফলে ট্রফি বা পদক সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং বছরের পর বছর একই জৌলুস ধরে রাখতে পারে।

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রায় ৬.২ কেজি ওজনের এই ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। ২৪ ক্যারেট সোনা ব্যবহার করলে এত বড় ও ভারী ট্রফি সহজেই বাঁকতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। তাই নকশা, সৌন্দর্য এবং স্থায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে ১৮ ক্যারেট সোনাই বেছে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটি সম্পূর্ণ সোনার তৈরি। কিন্তু আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) নিয়ম অনুযায়ী, স্বর্ণপদকের মূল অংশ তৈরি হয় রুপা দিয়ে। এরপর এর ওপর অন্তত ৬ গ্রাম খাঁটি সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। এর ফলে পদকটি সোনালি রঙ ও মর্যাদা বজায় রাখে, আবার উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও ১৮ ক্যারেট সোনা বা সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হাজার হাজার পদক তৈরি করতে হয়। সবগুলো যদি ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বানানো হতো, তাহলে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেত। এতে আয়োজনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রঙ ও উজ্জ্বলতা। ১৮ ক্যারেট সোনার রঙ খাঁটি সোনার তুলনায় কিছুটা গভীর এবং দীর্ঘদিন ধরে তার উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণের কারণে এটি ক্ষয় ও আঁচড়ের বিরুদ্ধেও তুলনামূলক বেশি প্রতিরোধী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো ট্রফি ও পদক তৈরিতে নান্দনিকতা, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং ব্যয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করে। সেই বিবেচনায় ১৮ ক্যারেট সোনা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থাৎ বিশ্বকাপ ট্রফি বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পদকে ১৮ ক্যারেট সোনা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত শুধু খরচ কমানোর জন্য নয়; বরং এটি দীর্ঘস্থায়িত্ব, শক্তি, সৌন্দর্য এবং ব্যবহারিক প্রয়োজনের সমন্বয়ে নেওয়া একটি বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত। 

তাই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কারগুলোতে আজও ১৮ ক্যারেট সোনাই আস্থার প্রতীক।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

টেকসই উন্নয়নে গ্রামের উন্নয়ন জরুরি, সরাইলে জেলা পরিষদ প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুরে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

‎ পিরোজপুর প্রতিনিধি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।