মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের অবাধ বিক্রি ও সংরক্ষণ দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা—বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসি, ক্লিনিক ও ওষুধের গুদামে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার পরও থামছে না এ অনিয়ম। ফলে অজান্তেই ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ সেবন করছেন অসংখ্য মানুষ, যা জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়, আবার অনেক ক্ষেত্রে এর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে শরীরে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন, হৃদরোগ ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার রোগীর জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের ওষুধ রোগ নিরাময়ে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির মতো দীর্ঘমেয়াদি সংকটও তৈরি করতে পারে।
ভোক্তা অধিকার ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিভিন্ন অভিযানে বারবার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ হলেও বাজার থেকে পুরোপুরি এ ধরনের ওষুধ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি উচ্চ আদালতও সারা দেশের ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অপসারণ ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এসব অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। ওষুধ উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দ্রুত বাজার থেকে প্রত্যাহার, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু, লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করা না গেলে চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। একই সঙ্গে নীরবে বিস্তার লাভ করবে এমন এক স্বাস্থ্যঝুঁকি, যার ভয়াবহতার শিকার হতে পারে কোটি মানুষ।