বুধবারবাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

দীর্ঘ এক বছরের চেষ্টায় কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলো প্রবাসীর লাশ

দীর্ঘ এক বছরের চেষ্টায় কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলো প্রবাসীর লাশ
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন

এক বছর আগে কম্বোডিয়ায় মারা যান রূপগঞ্জের মিন্টু মিয়া (৫১)। কিন্তু ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কারণে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এক বছর পর আজ (রবিবার) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় মিনটুর মরদেহ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিন্টুর লাশ গ্রহণ করেন তার স্ত্রী তোফা খানম।

জমি বিক্রি ও ঋণ করে ২০২৫-এর জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া গিয়েছিলেন মিন্টু মিয়া। প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সেখানে ছোট একটি রেস্টুরেন্ট শুরু করেন। কিন্ত কিছুদিন না যেতেই বাধার মুখে পড়েন। সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য ওই স্থাপনাটি ভেঙে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এক কম্বোডিয়ান নাগরিকের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন মিনটু। কিন্তু সেখানেও তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর গত বছরের ২৬ আগস্ট মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আর তার মত্যুর পরপরই অবশিষ্ট সবকিছুই লুটে নেয় অজ্ঞাতরা।

মিন্টু মিয়াই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। এমনকি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতেও সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয় তার পরিবারকে। দীর্ঘ চার মাস বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালালেও তারা সফল হয়নি। কারণ মিন্টু ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়া যাওয়ার পর বিজনেস ভিসা নেন। ফলে বাংলাদেশের ওয়ার্কপারমিট না থাকায় তিনি দেশে নথিভুক্ত ছিলেন না। এই জটিলতা মোকাবিলা করে লাশ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন পক্ষ ৭ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯ লাখের বেশি। ঋণে জর্জরিত পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ নভেম্বর মিন্টু মিয়ার স্ত্রী তোফা খানম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উইটনেস ফাউন্ডেশনে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা করে। এরপর সংশিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বয় ও ধারাবাহিক অনুসরণের মাধ্যমে অবশেষে সরকারি তহবিলের সহায়তায় মরদেহটি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

উইটনেস ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন কো-অর্ডিনেটর রাগীব হাসান জানান, অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন এবং সংকটে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা সংগঠনটি এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে। সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ, সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মিন্টু মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নাশকতার অপচেষ্টা চলছে: রিজভী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নাশকতার অপচেষ্টা চলছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিনিধি
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।