স্ত্রীসহ আসিফের পাঁচ দেশে সম্পদের অভিযোগ, বিএফআইইউতে তথ্য চাইল দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
স্ত্রীসহ আসিফের পাঁচ দেশে সম্পদের অভিযোগ, বিএফআইইউতে তথ্য চাইল দুদক.
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, সম্পদ এবং দেশে-বিদেশে লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর নামে দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চালু, সুপ্ত ও বন্ধ—সব ধরনের হিসাব রয়েছে।এ ছাড়া ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিও চেয়েছে দুদক।চিঠিতে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এসব দেশে তাঁদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগ আছে কি না, সে তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।দুদকের চিঠিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহেদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।পরদিন আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক। পরে এসব নথির গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুদকে পৌঁছেছে।১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অভিযোগের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে অর্থপাচারের কথা রয়েছে।দুদকে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্বের কয়েকটি দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে পাচার করা অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। ‘গ্রিন গ্রুপে’ মূলধন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে সম্পদ গড়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পর্তুগালে দুর্নীতির অর্থ দিয়ে জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।বিদেশে অর্থপাচারে আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন।দুদকে আসা অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।অভিযোগের তালিকায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর কথাও রয়েছে।যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।অভিযোগে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ও গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ও পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।এ ছাড়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগও রয়েছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, সম্পদ এবং দেশে-বিদেশে লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর নামে দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চালু, সুপ্ত ও বন্ধ—সব ধরনের হিসাব রয়েছে।
এ ছাড়া ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিও চেয়েছে দুদক।
চিঠিতে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এসব দেশে তাঁদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগ আছে কি না, সে তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।
দুদকের চিঠিতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহেদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
পরদিন আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত নথি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক। পরে এসব নথির গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুদকে পৌঁছেছে।
১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অভিযোগের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে অর্থপাচারের কথা রয়েছে।
দুদকে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্বের কয়েকটি দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে পাচার করা অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। ‘গ্রিন গ্রুপে’ মূলধন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করে সম্পদ গড়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পর্তুগালে দুর্নীতির অর্থ দিয়ে জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।
বিদেশে অর্থপাচারে আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন।
দুদকে আসা অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর কথাও রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ও গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ও পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগও রয়েছে।