রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় মির্জা ফখরুল, খন্দকার মোশাররফ, আবদুল মঈন খান ও নাসিমুল গনির নাম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হবেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ায় এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন-বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?
এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দলীয় ও সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে। সে কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৭৯ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতা হিসেবে তার নামও রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় রয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিএনপি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।
আলোচনায় নাসিমুল গনিও
রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে উচ্চারিত হচ্ছে।
তিনি চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে চলমান আলোচনার পর আগামী দিনগুলোতেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।