অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
পদ্মা ও মেঘনা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে অন্তত ৩০টি ডুবোচর জেগে ওঠায় শরীয়তপুর অঞ্চলে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। তীব্র নাব্যতা সংকট আর ক্রমবর্ধনশীল নদী দূষণের ফলে গত পাঁচ বছরে এই জেলায় রূপালী ইলিশের উৎপাদন কমেছে ৮২৩ মেট্রিক টন।
ইলিশের উৎপাদন ধসে পড়ায় চরম সংকটে পড়েছেন জেলার প্রায় ৩০ হাজার নিবন্ধিত জেলে। প্রতিদিন ভোরে ট্রলার নিয়ে নদীতে নেমেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। যে সামান্য পরিমাণ মাছ মিলছে, তা বিক্রি করে নৌকার জ্বালানি খরচ ও জেলের দৈনিক মজুরিও উঠছে না। ফলে ট্রলারমালিক ও জেলে পরিবারগুলোর মাঝে এখন চরম হতাশা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, নদীতে নাব্যতাসংকটের কারণে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলেও দ্বিগুণ সময় ও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।
জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর সীমানায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার নদীপথের বিভিন্ন পয়েন্টে পলি জমে এসব ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদীর গভীরতা হ্রাস এবং অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিংয়ের কারণে ইলিশ তার অভিবাসন পথ বদলে অন্য নদীর দিকে চলে যাচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, নাব্যতা সংকট ও পানির পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণেই মাছের পথ পরিবর্তন হচ্ছে। তবে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দূষণ বন্ধ করা সম্ভব হলে পদ্মা-মেঘনায় আবারও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে।