বেআইনিভাবে অর্পিত সম্পত্তির লিজ দেওয়ার অভিযোগ, ডিসির কাছে প্রবীণের আবেদন
নীলফামারী প্রতিনিধি
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
বেআইনিভাবে অর্পিত সম্পত্তির লিজ দেওয়ার অভিযোগ, ডিসির কাছে প্রবীণের আবেদন.
নীলফামারী শহরের বাজার মৌজায় অর্পিত সম্পত্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের নামে লিজ পুনর্বহাল ও কথিত অনিয়মের তদন্ত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. আবু সুফিয়ান সরকার নামে এক প্রবীণ।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের নন্দলাল আগরওয়ালার নামে তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তিটি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সালিয়ানা ৭ হাজার ২০০ টাকা হারে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ২০০৯ সালের জন্য লিজ নেন আবু সুফিয়ান সরকার। লিজ পাওয়ার পর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আবু সুফিয়ানের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আরিফা সুলতানা নামে এক নারী জেলা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে জমিটি নিজের নামে লিজ নেন। পরে লিজের শর্ত ভঙ্গ করে জমিতে থাকা মূল্যবান টিন, শালকাঠসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আবু সুফিয়ান জানান, বিষয়টি জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরিফা সুলতানার লিজ বাতিল করেন।তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, পূর্বে ভোগদখলে না থাকা সত্ত্বেও অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূতভাবে একই জমি মো. সুলতান মাহমুদ ও মো. মাহাফুজ হোসেন হৃদয়ের নামে ১৪৩২ বঙ্গাব্দের জন্য নতুন করে লিজ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।আবু সুফিয়ান সরকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আরিফা সুলতানা আমাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছিলেন। তখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিজের জমিতে গিয়ে দেখি, মাত্র ১০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে সুলতান মাহমুদ ও মাহাফুজ হোসেন হৃদয়ের নামে নতুন লিজের কাগজ করা হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছি।’তিনি আরও দাবি করেন, নতুন লিজগ্রহীতারা জমি লিজ নেওয়ার পর এর কিছু অংশ অন্য ব্যক্তির কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।অভিযোগের বিষয়ে আরিফা সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।নতুন লিজগ্রহীতা মাহাফুজ হোসেন হৃদয়ের বাবা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘সরকারের সব নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমার ছেলে জমিটি লিজ নিয়েছে।’এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামান বলেন, ‘কাগজপত্র ও নথিপত্র সঠিক থাকলে এ ধরনের অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
নীলফামারী শহরের বাজার মৌজায় অর্পিত সম্পত্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের নামে লিজ পুনর্বহাল ও কথিত অনিয়মের তদন্ত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. আবু সুফিয়ান সরকার নামে এক প্রবীণ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের নন্দলাল আগরওয়ালার নামে তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তিটি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সালিয়ানা ৭ হাজার ২০০ টাকা হারে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ২০০৯ সালের জন্য লিজ নেন আবু সুফিয়ান সরকার। লিজ পাওয়ার পর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সুফিয়ানের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আরিফা সুলতানা নামে এক নারী জেলা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে জমিটি নিজের নামে লিজ নেন। পরে লিজের শর্ত ভঙ্গ করে জমিতে থাকা মূল্যবান টিন, শালকাঠসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবু সুফিয়ান জানান, বিষয়টি জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরিফা সুলতানার লিজ বাতিল করেন।
তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, পূর্বে ভোগদখলে না থাকা সত্ত্বেও অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূতভাবে একই জমি মো. সুলতান মাহমুদ ও মো. মাহাফুজ হোসেন হৃদয়ের নামে ১৪৩২ বঙ্গাব্দের জন্য নতুন করে লিজ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আবু সুফিয়ান সরকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আরিফা সুলতানা আমাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছিলেন। তখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিজের জমিতে গিয়ে দেখি, মাত্র ১০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে সুলতান মাহমুদ ও মাহাফুজ হোসেন হৃদয়ের নামে নতুন লিজের কাগজ করা হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছি।’
তিনি আরও দাবি করেন, নতুন লিজগ্রহীতারা জমি লিজ নেওয়ার পর এর কিছু অংশ অন্য ব্যক্তির কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফা সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন লিজগ্রহীতা মাহাফুজ হোসেন হৃদয়ের বাবা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘সরকারের সব নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমার ছেলে জমিটি লিজ নিয়েছে।’
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামান বলেন, ‘কাগজপত্র ও নথিপত্র সঠিক থাকলে এ ধরনের অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’