কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় কুমিল্লা সেক্টরের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ মাঠে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিজিবি জানায়, ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন মাদকবিরোধী অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার ৩১১ দশমিক ৬৫ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০ হাজার ৯৬৪ বোতল ভারতীয় হুইস্কি, ২৫ হাজার ২৭ বোতল এসকাফ সিরাপ, ১০ হাজার ২৯৪ বোতল ফেনসিডিল, ৯ হাজার ১৪৫ ক্যান ও বোতল বিয়ার, বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মাদকজাত ট্যাবলেট এবং ৩০ হাজার ৫০ প্যাকেট সিগারেট।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩২ কোটি ৭২ লাখ ১৭ হাজার ২১৫ টাকা।
এ ছাড়া একই অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার আংশিক সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মাদকদ্রব্য, ওষুধ, ইনজেকশন, সিগারেট ও জর্দাও ধ্বংস করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরাইল রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিবিএম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএমএস, পিএসসি।
এ সময় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদক দেশের যুবসমাজ, পরিবার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অন্যতম বড় হুমকি। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সীমান্তে মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনীটি সব সময় সতর্ক ও অঙ্গীকারবদ্ধ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সীমান্তে অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।