রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

নিষিদ্ধ আওয়ামী কর্মীদের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন তাসনিম জারা

নিষিদ্ধ আওয়ামী কর্মীদের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন তাসনিম জারা
এনসিপির সাবেক নেত্রী ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। সংগৃহীত ছবি
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
‘বেশ কিছুদিন ধরে কিছু আওয়ামী (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কর্মীরা আমাকে 'সেক্স ডাক্তার', 'যৌন ডাক্তার' বলে প্রচার করছেন। তাদের উদ্দেশ্য আমাকে হেয় করা, লজ্জা দেওয়া’, অভিযোগ করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা।

গতকাল শনিবার (০৮ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘যদিও ওনাদের (নিষিদ্ধ আওয়ামী কর্মী) এই প্রচার মিথ্যা (কারণ আমি মেডিসিনের ডাক্তার), তবুও আমি আজ পর্যন্ত এই অপপ্রচারের কোনো জবাব দিইনি। দুইটা কারণে।’

প্রথম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমি যদি ব্যস্ত হয়ে বলতাম, ‘না না, আমি ওরকম ডাক্তার নই’, তাতে হয়তো ওনাদের বিকৃত ধারণাটাকেই সায় দেওয়া হতো যে—যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়া বুঝি সত্যিই লজ্জার। এতে অন্যায় হতো সেই ডাক্তারদের প্রতি, যারা যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন। মানুষের এমন অনেক কষ্ট আছে, যা সে মা-বাবাকে বলতে পারে না, বন্ধুকে বলতে পারে না, এমনকি অনেক সময় নিজের স্বামী বা স্ত্রীকেও না। এদের পাশে সহায় হয়ে দাঁড়ান এই চিকিৎসকেরাই। তাদের হাতে ভাঙা সংসার জোড়া লাগে, নিঃসন্তান দম্পতির কোলে সন্তান আসে, গভীর হতাশা থেকে মানুষ আলোয় ফেরে। এমন মহান পেশার নাম গালি হবে কেন?’

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় কারণটা রোগীদের নিয়ে। আমি যদি এই ট্যাগ ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত হতাম, তাহলে এমন ধারণায় সায় দেওয়া হতো যে—যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে নেই। অথচ এই লজ্জার দাম প্রতিদিন গুনছে অসংখ্য মানুষ। সংকোচে ডাক্তারের কাছে যায় না, হাতুড়ের খপ্পরে পড়ে, ভুল ওষুধ খায়, বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট সইতে থাকে। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে যে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘যৌন ডাক্তার এখন দেশ চালাবে!’ এসব দেখে করুণা হয়। এরা নিজেকে প্রগতিশীল বলে পরিচয় দিতে চান, অথচ সত্যিকারের প্রগতিশীলতার জন্য যে জ্ঞান আর সহানুভূতিশীল আচরণ শেখা প্রয়োজন, তা রপ্ত করতে পারেননি। ‘যৌন ডাক্তার’ কথাটাকে তারা গালি ভাবেন না-জানা থেকে, কূপমণ্ডূকতা থেকে। কুয়োর ভেতর থেকে আকাশটা ছোট দেখায়, সে দোষ তো আকাশের নয়।’

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণ হিসেবে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘গতকাল রাতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখলাম, আমার নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ১৬০টি বিজ্ঞাপন চলছে। এই অপপ্রচারের কৌশলটা লক্ষ্য করার মতো। প্রথমে আমার ছবির সঙ্গে অশ্লীল কথা জুড়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালান; তারপর সেই বিজ্ঞাপনেরই স্ক্রিনশট ছড়িয়ে বলেন, ‘দেখুন, ইনি এই সব বিক্রি করেন! এমন অশ্লীল কথা বলেন!’ ওনাদের এই নাটকের সুযোগে নেমে পড়েছে একদল প্রতারক। আমার নাম-ছবি বসিয়ে বিক্রি করছে ওষুধ, স্লিমিং পণ্য, হরেক রকম ‘চিকিৎসা’।

নিজের নামে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির সাবেক নেত্রী বলেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো দিন কোনো ওষুধ বিক্রি করিনি। কোনো স্লিমিং পণ্য বিক্রি করিনি। কোনো চিকিৎসা, কোনো ট্রিটমেন্ট বিক্রি করিনি। আমার নাম বা ছবি দিয়ে যেখানে যা-ই বিক্রি হচ্ছে, তার সবটুকুই প্রতারণা।’

তাসনিম জারা আরও লিখেছেন, ‘গর্ভবতী মায়েদের জন্য আমাদের তৈরি একটা অ্যাপ আছে: Shohay Pregnancy। সেখানেও কোনো পণ্য বিক্রি হয় না। অধিকাংশ মানুষ অ্যাপটা ফ্রিতে ব্যবহার করেন; কেউ কেউ অ্যাপের প্রিমিয়াম ভার্সন কিনে ব্যবহার করেন। তাই আমার নামে কোনো ওষুধ, চিকিৎসা বা প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও দেখলে নিশ্চিন্তে ধরে নেবেন, এগুলো প্রতারকদের কাজ। এসব তো কিনবেনই না, আশপাশের কাউকে কিনতে দেখলে সতর্ক করে দেবেন। বিশেষ করে যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন কিন্তু এসব প্রতারণার কৌশল বুঝেন না।’

পোস্টের শেষ দিকে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নারী চিকিৎসক লিখেছেন, ‘যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন, সেই চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা। আর রোগী হিসাবে আপনার কোনো যৌন সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে সংকোচ করবেন না। অনেক রোগের ক্ষেত্রেই যত দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন, তত ভালো।’
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬