ইউক্রেনের ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট অবকাঠামোতে রুশ হামলার অভিযোগ
Bangladesh
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
ইউক্রেনের ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট অবকাঠামোতে রুশ হামলার অভিযোগ.
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া এখন দেশটির ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যাহত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার কারণে মানুষের যোগাযোগ, পড়াশোনা ও কাজ করার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়া ক্রমাগত হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে এবং ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বেসরকারি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে জানান তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।শুক্রবার রাজধানী কিয়েভের একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রে রুশ ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হন। হামলায় ভবনটিতে থাকা একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পৃথক আরেকটি হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত কিশোরটি ইসরায়েলের নাগরিক ছিল। কিয়েভের ডেটা সেন্টারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মস্কোর দাবি, ওই স্থাপনাটি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করছিল।এর আগে বুধবার রুশ হামলার কারণে কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলের প্রায় এক লাখ পরিবার ইন্টারনেট সংযোগ হারায়। ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার থেকে কিছু তথ্য ইতোমধ্যে বিদেশে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লুতস্কেও শুক্রবার গণপরিবহনের স্টপেজে থাকা ইলেকট্রনিক তথ্যফলকগুলো কাজ করেনি। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভের ডেটা সেন্টারে রুশ হামলায় সৃষ্ট ক্ষতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ডেটা সেন্টার লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে রাশিয়া ‘জীবন রক্ষাকারী তথ্যের’ প্রবাহ ব্যাহত করতে চাইছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে দ্রুত সতর্কবার্তা মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অবকাঠামো বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেসনভ বলেছেন, হামলার পর কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের ব্যয় মেটাতে ইন্টারনেট সেবার মূল্য বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।তবে ইউক্রেনের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিকেন্দ্রীভূত হওয়ায় পুরো দেশ ইন্টারনেটবিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি। শুক্রবার রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেটা সেন্টারটি পরিচালনা করে দাতাগ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। তবে ব্যাকআপ স্থাপনার মাধ্যমে সব সেবা সচল রাখা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইউক্রেনের আরও কয়েকটি ডেটা প্রসেসিং ও টেলিযোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে নিউ-টেলকো, ইউনাইটেড ডিসি, কিয়েভস্টার ও পারকোভিই রয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের জ্বালানি ও রেল অবকাঠামোতেও রুশ হামলা বেড়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের দাবি, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়নে ভূমিকা রাখে। এদিকে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়টি মস্কো ‘ভেবেচিন্তে দেখবে’। তবে একই সঙ্গে ইউক্রেনের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।পুতিন বলেন, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হলেও ইউক্রেনকে রুশ পাল্টা হামলার মুখোমুখি হতে হবে। সব সিদ্ধান্ত রাশিয়ার স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। কিয়েভ ও এর ইউরোপীয় মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, পুতিন শান্তি আলোচনায় অনাগ্রহী এবং ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখল করতে চান। তবে মস্কো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া এখন দেশটির ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যাহত করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার কারণে মানুষের যোগাযোগ, পড়াশোনা ও কাজ করার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়া ক্রমাগত হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে এবং ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বেসরকারি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে জানান তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানী কিয়েভের একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রে রুশ ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হন। হামলায় ভবনটিতে থাকা একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পৃথক আরেকটি হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত কিশোরটি ইসরায়েলের নাগরিক ছিল। কিয়েভের ডেটা সেন্টারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মস্কোর দাবি, ওই স্থাপনাটি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করছিল।
এর আগে বুধবার রুশ হামলার কারণে কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলের প্রায় এক লাখ পরিবার ইন্টারনেট সংযোগ হারায়। ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার থেকে কিছু তথ্য ইতোমধ্যে বিদেশে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লুতস্কেও শুক্রবার গণপরিবহনের স্টপেজে থাকা ইলেকট্রনিক তথ্যফলকগুলো কাজ করেনি। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভের ডেটা সেন্টারে রুশ হামলায় সৃষ্ট ক্ষতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ডেটা সেন্টার লক্ষ্য করে হামলার মাধ্যমে রাশিয়া ‘জীবন রক্ষাকারী তথ্যের’ প্রবাহ ব্যাহত করতে চাইছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে দ্রুত সতর্কবার্তা মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অবকাঠামো বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেসনভ বলেছেন, হামলার পর কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের ব্যয় মেটাতে ইন্টারনেট সেবার মূল্য বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে ইউক্রেনের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিকেন্দ্রীভূত হওয়ায় পুরো দেশ ইন্টারনেটবিহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি। শুক্রবার রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডেটা সেন্টারটি পরিচালনা করে দাতাগ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। তবে ব্যাকআপ স্থাপনার মাধ্যমে সব সেবা সচল রাখা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইউক্রেনের আরও কয়েকটি ডেটা প্রসেসিং ও টেলিযোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে নিউ-টেলকো, ইউনাইটেড ডিসি, কিয়েভস্টার ও পারকোভিই রয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের জ্বালানি ও রেল অবকাঠামোতেও রুশ হামলা বেড়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের দাবি, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়নে ভূমিকা রাখে। এদিকে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়টি মস্কো ‘ভেবেচিন্তে দেখবে’। তবে একই সঙ্গে ইউক্রেনের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
পুতিন বলেন, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হলেও ইউক্রেনকে রুশ পাল্টা হামলার মুখোমুখি হতে হবে। সব সিদ্ধান্ত রাশিয়ার স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। কিয়েভ ও এর ইউরোপীয় মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, পুতিন শান্তি আলোচনায় অনাগ্রহী এবং ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখল করতে চান। তবে মস্কো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।