বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় ফ্রান্স: রাষ্ট্রদূত
Bangladesh
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায় ফ্রান্স: রাষ্ট্রদূত.
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ফ্রান্স প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-চারলেট। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বহুপক্ষীয়তা ও সহযোগিতার মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জলবায়ু, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।মঙ্গলবার ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি আগের তুলনায় বেশি ‘বিশৃঙ্খল, বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত’। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংঘাত অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগের একটি সাধারণ উপায়ে পরিণত হয়েছে এবং সহযোগিতার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।তিনি বলেন, বিশ্ব একটি গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপীয় একীকরণের লক্ষ্য সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাওয়া।মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করা, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।বাংলাদেশকে ফ্রান্সের ‘দীর্ঘদিনের, নির্ভরযোগ্য ও অনুমানযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, বহুপক্ষীয়তা এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দুই দেশের মূল্যবোধের মিল রয়েছে।ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ফ্রান্স বহুপাক্ষিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অংশীদার দেশগুলোকে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে সহায়তা করাও ফরাসি নীতির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপরও গুরুত্ব দেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। অবৈধ মাছ ধরা, জলদস্যুতা ও পাচারের মতো অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান তিনি।বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সাড়ে চার বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের মোট আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই টেক্সটাইল খাত, বিশেষ করে পোশাক ও পরিধেয় পণ্য থেকে আসে।এ ছাড়া বিমান চলাচল, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।জলবায়ু সহযোগিতার বিষয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় ফ্রান্স।বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াতেও ফ্রান্স সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রেও ফ্রান্সের নীতির কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল অধিকার ও জলবায়ু পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জিন-মার্ক সেরে-চারলেট বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিন্ন মূল্যবোধ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে থাকা দেশগুলোর আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।তিনি বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত। দুই দেশের সম্পর্ক ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ফ্রান্স প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-চারলেট। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বহুপক্ষীয়তা ও সহযোগিতার মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, জলবায়ু, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি আগের তুলনায় বেশি ‘বিশৃঙ্খল, বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত’। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংঘাত অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগের একটি সাধারণ উপায়ে পরিণত হয়েছে এবং সহযোগিতার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব একটি গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপীয় একীকরণের লক্ষ্য সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাওয়া।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করা, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশকে ফ্রান্সের ‘দীর্ঘদিনের, নির্ভরযোগ্য ও অনুমানযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, বহুপক্ষীয়তা এবং শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দুই দেশের মূল্যবোধের মিল রয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ফ্রান্স বহুপাক্ষিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অংশীদার দেশগুলোকে নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে সহায়তা করাও ফরাসি নীতির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপরও গুরুত্ব দেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। অবৈধ মাছ ধরা, জলদস্যুতা ও পাচারের মতো অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সাড়ে চার বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের মোট আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই টেক্সটাইল খাত, বিশেষ করে পোশাক ও পরিধেয় পণ্য থেকে আসে।
এ ছাড়া বিমান চলাচল, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জলবায়ু সহযোগিতার বিষয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় ফ্রান্স।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াতেও ফ্রান্স সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।
নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রেও ফ্রান্সের নীতির কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল অধিকার ও জলবায়ু পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জিন-মার্ক সেরে-চারলেট বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিন্ন মূল্যবোধ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে থাকা দেশগুলোর আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত। দুই দেশের সম্পর্ক ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।