নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ভর্তি আবেদনের কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে, তা আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত হতে পারে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবারের মধ্যে আবেদনের তারিখ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারও গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
গত সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এ সময় জানানো হয়, নতুন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
এদিকে চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ায় কলেজগুলোতে আসনসংকটের পরিবর্তে শিক্ষার্থীসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত কয়েক বছরে পরীক্ষায় পাসের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসনসংখ্যাও বেড়েছে। তবে গত বছর থেকে পাসের হারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরও পাসের হার আরও কমেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে দেশে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ আসন রয়েছে। এর বিপরীতে চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৩৯ হাজার। ফলে প্রায় ১৭ লাখ আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে সাধারণ কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯ হাজার ৩১৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আসন প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ।
এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে ৮ হাজার ৭১টি কলেজ ও মাদরাসা। এসব প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে আসনসংখ্যা ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৭টি।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে এক হাজারের বেশি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা দেড় লাখের বেশি।
গত সোমবার চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।
এবার মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
তবে আগের বছরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ সাধারণত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় না। ফলে চলতি বছর কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভর্তি আবেদনের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হলে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।