সরকারি টাকায় নির্মিত রাস্তা দখলের চেষ্টা, সার্ভেয়ারকে ঘিরে উত্তেজনা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
সরকারি টাকায় নির্মিত রাস্তা দখলের চেষ্টা, সার্ভেয়ারকে ঘিরে উত্তেজনা.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি পাকা রাস্তার জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চরমে উঠেছে। রাস্তা নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে একটি পক্ষ সেখানে বালি-ইট রেখে চলাচলে বাধা এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ করতে সরকারি সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা দেখা দেয়।স্থানীয়দের দাবি, উলচাপাড়া মৌজার ৬২২ নম্বর দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত জমির ওপর দিয়ে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষ চলাচল করছে। পরবর্তীতে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের অংশ হিসেবে এলজিইডির ৪১২১৩৫০১৫ নম্বর কোডের ‘উলচাপাড়া বাজার রোড’ সড়কটি সরকারি অর্থায়নে একাধিকবার পাকাকরণ করা হয়।প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সম্প্রতি বাচ্চু মিয়া ও তাঁর পক্ষের লোকজন সড়কের জমি নিজেদের বলে দাবি করে সেখানে বালি ও ইট রাখেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে নেওয়া এবং সড়ক ভেঙে বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জায়গার পাশের সরকারি খাল ভরাট করে বিকল্প রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়।রাস্তা রক্ষার দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষে মো. জামাল মিয়া, দানা মিয়া, মো. বাচ্চু মিয়া, মো. জসিম ও সালমান শাহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা বন্ধ এবং রাস্তা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।অভিযোগের পর মঙ্গলবার সকালে বিরোধপূর্ণ জায়গা পরিদর্শন ও জমির অবস্থান নির্ধারণে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপের উদ্যোগ নেয় ভূমি অফিস। এ সময় রাস্তার জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় কয়েকজন শাবল, হাতুড়ি ও খুন্তি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। এতে সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।তবে বিরোধের মূল জায়গা জমির মালিকানা। স্থানীয়দের এক পক্ষের দাবি, জায়গাটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, জায়গাটি তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি এবং কাগজপত্র অনুযায়ী তারাই মালিক।অভিযুক্ত পক্ষের ভাষ্য, “আমাদের বাপ-দাদাকে ভুল বুঝিয়ে রাস্তার জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। কাগজপত্রে আমরা জায়গার মালিক। প্রশাসনের কাছে আমরা আমাদের জায়গা ফেরত চাই।ফলে বিরোধপূর্ণ জমিটি আসলে কার—সরকারের, নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, দাগ, দলিল ও মাঠপর্যায়ের সীমানা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এদিকে রাস্তা দখল ও বসতঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান বলেন, “সরকারি অর্থায়নে নির্মিত চলাচলের রাস্তা ভাঙা যাবে না। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বলব।”এখন প্রশ্ন হলো—রাস্তাটির জমির প্রকৃত মালিকানা কার? সরকারি খাস খতিয়ানের জমি হলে সেটি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানার দাবি উঠল, আর ব্যক্তিমালিকানাধীন হলে সরকারি অর্থে সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হলো? ভূমি রেকর্ড ও সরেজমিন পরিমাপের ফলেই এর উত্তর মিলবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি পাকা রাস্তার জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চরমে উঠেছে। রাস্তা নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে একটি পক্ষ সেখানে বালি-ইট রেখে চলাচলে বাধা এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ করতে সরকারি সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা দেখা দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, উলচাপাড়া মৌজার ৬২২ নম্বর দাগের খাস খতিয়ানভুক্ত জমির ওপর দিয়ে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষ চলাচল করছে। পরবর্তীতে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের অংশ হিসেবে এলজিইডির ৪১২১৩৫০১৫ নম্বর কোডের ‘উলচাপাড়া বাজার রোড’ সড়কটি সরকারি অর্থায়নে একাধিকবার পাকাকরণ করা হয়।
প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সম্প্রতি বাচ্চু মিয়া ও তাঁর পক্ষের লোকজন সড়কের জমি নিজেদের বলে দাবি করে সেখানে বালি ও ইট রাখেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে নেওয়া এবং সড়ক ভেঙে বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জায়গার পাশের সরকারি খাল ভরাট করে বিকল্প রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়।
রাস্তা রক্ষার দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষে মো. জামাল মিয়া, দানা মিয়া, মো. বাচ্চু মিয়া, মো. জসিম ও সালমান শাহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা বন্ধ এবং রাস্তা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
অভিযোগের পর মঙ্গলবার সকালে বিরোধপূর্ণ জায়গা পরিদর্শন ও জমির অবস্থান নির্ধারণে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপের উদ্যোগ নেয় ভূমি অফিস। এ সময় রাস্তার জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় কয়েকজন শাবল, হাতুড়ি ও খুন্তি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। এতে সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে বিরোধের মূল জায়গা জমির মালিকানা। স্থানীয়দের এক পক্ষের দাবি, জায়গাটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, জায়গাটি তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি এবং কাগজপত্র অনুযায়ী তারাই মালিক।
অভিযুক্ত পক্ষের ভাষ্য, “আমাদের বাপ-দাদাকে ভুল বুঝিয়ে রাস্তার জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। কাগজপত্রে আমরা জায়গার মালিক। প্রশাসনের কাছে আমরা আমাদের জায়গা ফেরত চাই।
ফলে বিরোধপূর্ণ জমিটি আসলে কার—সরকারের, নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, দাগ, দলিল ও মাঠপর্যায়ের সীমানা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে রাস্তা দখল ও বসতঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান বলেন, “সরকারি অর্থায়নে নির্মিত চলাচলের রাস্তা ভাঙা যাবে না। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বলব।”
এখন প্রশ্ন হলো—রাস্তাটির জমির প্রকৃত মালিকানা কার? সরকারি খাস খতিয়ানের জমি হলে সেটি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানার দাবি উঠল, আর ব্যক্তিমালিকানাধীন হলে সরকারি অর্থে সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হলো? ভূমি রেকর্ড ও সরেজমিন পরিমাপের ফলেই এর উত্তর মিলবে।