ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটোর কলমের চারা উৎপাদনে ব্যস্ত কৃষকরা.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটোর কলমের (গ্রাফটিং) চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও নার্সারি উদ্যোক্তারা। জেলার সদর উপজেলার শতাধিক নার্সারিতে এখন চলছে টমেটোর চারা উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। একসময় পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে চারা কিনে আনলেও এখন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও চারা উৎপাদন করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি থেকে বছরে প্রায় ৫ লাখ গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদিত হয়। এসব চারার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উপজেলার নার্সারিগুলোতে সারা বছর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের চারা কেনাবেচা হয়।সদর উপজেলার নাটঘর উত্তর, রামরাইল ও মাছিহাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা নিজেদের নার্সারিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা উৎপাদন করছেন। এ কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৬০০ মানুষ। তাঁদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।গ্রাফটিং পদ্ধতিতে সাধারণত বুনো বা স্থানীয় জাতের বেগুনের চারার সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর চারা জোড়া দিয়ে নতুন চারা তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত গাছ প্রতিকূল আবহাওয়ায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফলন দিতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত টমেটোর চারা কৃষকদের কাছে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। ফলে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রাফটিং চারা উৎপাদনে ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। বছরের অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন সবজি ও ফসলের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা হয়।একজন চারা উৎপাদনকারী বলেন, আগে স্থানীয় কৃষকদের চারা সংগ্রহের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন স্থানীয়ভাবেই প্রয়োজনীয় চারা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।সদর উপজেলার বেহাইর গ্রাম এখন ‘চারা গ্রাম’ বা ‘সবজি পল্লি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামটিতে প্রায় ৪০টি পরিবার সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাড়ির কাজের পাশাপাশি অনেক নারীও নার্সারিতে কাজ করে বাড়তি আয় করছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, সদর উপজেলায় সারা বছর বিভিন্ন নার্সারিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চারা কেনাবেচা হয়। এর ফলে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।স্থানীয়দের আশা, চারা উৎপাদন ও নার্সারি ব্যবসার পরিধি আরও বাড়লে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটোর কলমের (গ্রাফটিং) চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও নার্সারি উদ্যোক্তারা। জেলার সদর উপজেলার শতাধিক নার্সারিতে এখন চলছে টমেটোর চারা উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ। একসময় পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে চারা কিনে আনলেও এখন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও চারা উৎপাদন করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি থেকে বছরে প্রায় ৫ লাখ গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদিত হয়। এসব চারার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উপজেলার নার্সারিগুলোতে সারা বছর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের চারা কেনাবেচা হয়।
সদর উপজেলার নাটঘর উত্তর, রামরাইল ও মাছিহাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা নিজেদের নার্সারিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা উৎপাদন করছেন। এ কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৬০০ মানুষ। তাঁদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
গ্রাফটিং পদ্ধতিতে সাধারণত বুনো বা স্থানীয় জাতের বেগুনের চারার সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর চারা জোড়া দিয়ে নতুন চারা তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত গাছ প্রতিকূল আবহাওয়ায় তুলনামূলকভাবে ভালো ফলন দিতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত টমেটোর চারা কৃষকদের কাছে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। ফলে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রাফটিং চারা উৎপাদনে ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। বছরের অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন সবজি ও ফসলের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা হয়।
একজন চারা উৎপাদনকারী বলেন, আগে স্থানীয় কৃষকদের চারা সংগ্রহের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন স্থানীয়ভাবেই প্রয়োজনীয় চারা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
সদর উপজেলার বেহাইর গ্রাম এখন ‘চারা গ্রাম’ বা ‘সবজি পল্লি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামটিতে প্রায় ৪০টি পরিবার সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাড়ির কাজের পাশাপাশি অনেক নারীও নার্সারিতে কাজ করে বাড়তি আয় করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, সদর উপজেলায় সারা বছর বিভিন্ন নার্সারিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার চারা কেনাবেচা হয়। এর ফলে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, চারা উৎপাদন ও নার্সারি ব্যবসার পরিধি আরও বাড়লে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।