রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

সফর মাসের প্রথম শুক্রবার: ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

মোহাম্মদ মেরাজ হোসাইন
সফর মাসের প্রথম শুক্রবার: ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
 ইসলামি চন্দ্রবর্ষ বা হিজরি ক্যালেন্ডারের দ্বিতীয় মাস হলো 'সফর'। মহররমের পবিত্রতা ও গাম্ভীর্যের পর এই মাসের আগমন ঘটে। মুসলিম সমাজে অনেক সময় বিভিন্ন মাস বা নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনা বা ফজিলতের কথা প্রচলিত থাকে। এর মধ্যে 'সফর মাসের প্রথম শুক্রবার' অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়। তবে কুরআন, সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য ইসলামি ইতিহাসের আলোকে এই দিনটির কোনো বিশেষত্ব বা সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় না। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রবন্ধ আকারে বিশ্লেষণ করা হলো। 

১. প্রথম শুক্রবারের বাস্তব ভিত্তি 
ইসলামি শরিয়তে বা প্রামাণ্য ইতিহাসে সফর মাসের প্রথম শুক্রবারে সংঘটিত কোনো সুনির্দিষ্ট বা যুগান্তকারী ঘটনার উল্লেখ নেই। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে আলাদা কোনো ইবাদত, রোজা বা বিশেষ আমলেরও বিধান ইসলামে দেওয়া হয়নি। শুক্রবার হিসেবে জুমার দিনের যে স্বাভাবিক মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে, সফর মাসের প্রথম শুক্রবারেও ঠিক সেই মর্যাদাই প্রযোজ্য। 

২. জুমার দিনের সাধারণ মর্যাদা ও তাৎপর্য 
ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিনকে 'সাপ্তাহিক ঈদের দিন' এবং 'দিনসমূহের সর্দার' বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটিই সর্বোত্তম।" এই পবিত্র দিনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক অলৌকিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে।

হযরত আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছে। 
এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। 
এই দিনেই তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। 
এই দিনে এমন একটি বরকতময় মুহূর্ত আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তা-ই কবুল করেন। 
সুতরাং, সফর মাসের প্রথম শুক্রবারের মূল তাৎপর্য এর 'সফর' মাস হওয়ার মধ্যে নয়, বরং এর 'শুক্রবার' বা 'জুমার দিন' হওয়ার মধ্যেই নিহিত। 

৩. জাহেলি যুগের ভ্রান্ত ধারণা এবং ইসলামের সংস্কার 
সফর মাসকে কেন্দ্র করে ইসলাম-পূর্ব জাহেলি যুগে আরবে ব্যাপক কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। আরবের লোকেরা এই মাসকে অশুভ, বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবতের মাস মনে করত। তারা বিশ্বাস করত যে, এই মাসে কোনো নতুন কাজ শুরু করলে, ব্যবসা বাণিজ্য করলে কিংবা বিয়ে-শাদি করলে তাতে অমঙ্গল ও অকল্যাণ নেমে আসবে। 
কিন্তু ইসলাম এই ভিত্তিহীন ও মনগড়া ধারণাকে সমূলে উৎপাটন করেছে। প্রিয় হুজুর পাক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন: "রোগ-ব্যাধি নিজে থেকে সংক্রমিত হয় না, অশুভ কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, পেঁচা বা প্যাঁচার ডাকে কোনো অশুভ নেই এবং সফর মাসের মাঝেও কোনো অশুভ বা কুলক্ষণ নেই।" (সহিহ বুখারি)। তাই সফর মাসের প্রথম শুক্রবার বা অন্য কোনো দিনকে অশুভ মনে করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। 

৪. সফর মাসে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনাবলি 
যদিও সফর মাসের প্রথম শুক্রবারে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা নেই, তবে সামগ্রিকভাবে এই মাসে ইসলামি ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যা নিচে তুলে ধরা হলো: 
হিজরতের সূচনা: মক্কার কাফিরদের চরম নির্যাতনের মুখে প্রিয় হুজুর পাক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক যাত্রা এই সফর মাসের শেষের দিকেই (২৭ সফর) শুরু করেছিলেন। 

খায়বারের যুদ্ধ: ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম নির্ণায়ক ও গৌরবময় যুদ্ধ 'খায়বার বিজয়' ৭ম হিজরির সফর মাসে সংঘটিত হয়েছিল। 
আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর বিবাহ: অনেক ঐতিহাসিকের মতে, দ্বিতীয় হিজরির সফর মাসে ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা.) এবং নবী (দ.)-কন্যা ফাতিমা (রা.)-এর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। 
প্রিয় হুজুর পাক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতার সূচনা: ১১ হিজরির সফর মাসের শেষ দিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই জ্বর ও মাথাব্যথা শুরু হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর ওফাতের কারণ হয়।

লেখক: গবেষক ও প্রভাষক (ইসলামের ইতিহাস),
মাদ্রাসায়ে গাউছিয়া পেশোয়ারীয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা, নরসিংদী।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬