ঢাকা, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬): জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা ভুলিয়ে দেওয়ার মতো কোনো চেষ্টা হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার মতো কিছু হয়ে থাকলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা তছনছ করে দেওয়া হবে। জীবন তো একটাই, সেই জীবন জাতির জন্য উৎসর্গ হোক। এই ইস্যুতে বৃদ্ধ আর যুবক একাকার।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও দাবি থেকে মানুষকে সরিয়ে দিতে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব ও প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে। তবে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের কোনো নিজস্ব রায় নেই। জনগণের রায়ই মানতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না।”
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আন্দোলনে যার যে অবদান রয়েছে, তা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নেরও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “একাত্তরের মতো চব্বিশও যেন হারিয়ে না যায়। সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।”
সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের অবস্থানের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন বয়ান দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের বিচার কার্যক্রমের গতি কমে গেছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুলাইযোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যাদের আত্মত্যাগের কারণে আপনারা সরকারে আছেন, তাদের ওপর নির্যাতন করবেন না। তাদের এক ফোঁটা রক্তও যেন না ঝরে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী সবসময় প্রস্তুত। তবে জনগণের অধিকার বা দেশের সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ওআইআরডির উপদেষ্টা ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল বুলবুল, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ অন্যরা।