চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় মন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দেখতে যান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকবে। ইতোমধ্যে মালিক পক্ষ ১০ লাখ টাকা করে প্রতিটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি জানান, সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে মালিক পক্ষের কোনো গাফলতি পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
ঘটনাস্থলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সেনাবাহিনীও কাজ করছে।
এ সময় চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে একে একে আটজন মারা যান। আহতদের চমেক হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাতজনের পরিচয় জানা গেছে।
তারা হলেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর সানী জলদাশ (২২), পলাশ জলদাশ (২৭), মুনছুর আলী (৪০), নাসির উদ্দিন (৩৮) এবং জামালপুরের হাবীবুর রহমান, গাইবান্ধার খোকন এবং আব্দুল আমীল রানা।
এদিকে এ ঘটনায় জাহাজভাঙা শিল্পের সংগঠন বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে তারা পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট টিম ঘটনা করেছে।
ইয়ার্ড মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, আহত ক্ষতিগ্রস্তদের উন্নত চিকিৎসা ও নিহতের পরিবারকে সরকারি বিধি ছাড়াও সার্বিক সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।