অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন খাতের সার্বিক উন্নয়নে কৃষিজমি রক্ষা এবং রাজধানীর বাইরেও সমান গুরুত্ব দিয়ে নগরায়ণ বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে ড্যাপ বাস্তবায়নজনিত সমস্যা, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি কমানো এবং পরিকল্পিত নগরায়ণসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আবাসন খাতের বর্তমান স্থবিরতা কাটাতে একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তারা জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং সরকারি সেবাসমূহ দ্রুত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার জোর দাবি জানান। এ ছাড়া ঢাকার সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) বাড়ানো এবং উল্লম্ব (ভার্টিকাল) নগরায়ণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রিহ্যাব নেতাদের প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এই খাতের বিকাশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে, যা আবাসন খাতকে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সহায়তা করবে।
নগরায়ণের বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও আঞ্চলিক শহরগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে।
তবে যেকোনো ধরনের নগরায়ণ বা আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, রিহ্যাবের সহ-সভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) নাসির মজুমদার, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান এবং স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম।