অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, গবেষণা জোরদার এবং আধুনিক কৃষি মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, খাদ্যে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু মনোরম পরিবেশের জন্য নয়, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও কৃষি গবেষণায় অবদানের জন্যও বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। নতুন শিক্ষার্থীরা সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী।
তাঁদের শিক্ষা, গবেষণা ও সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষির বহুমুখীকরণ এবং গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই উচ্চমানের গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাদ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আজ যারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করছেন, তাঁদের হাত ধরেই কৃষি ও দেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত সরকারের সময়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করেছেন এবং চার বছর পর স্নাতক সম্পন্ন করার সময়ও সরকারের ধারাবাহিকতার মধ্যে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের নীতি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন-ভাবনা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ঋণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো নয়; কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সেচ, বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা।
কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশে অনেক কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও উৎপাদন এলাকা থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আবার সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সীমাবদ্ধতায় বিপুল পরিমাণ ফল ও সবজি নষ্ট হয়। এই সমস্যার সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আম থেকে জুস বা চাটনি, টমেটো থেকে সসসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করে কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন করা সম্ভব। এতে অপচয় কমবে, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী হবে, পণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে এবং রপ্তানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্পের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান শুধু কৃষি শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত কান্ডারি শিক্ষার্থীরাই। দুই বছর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাহস ও নেতৃত্বের যে পরিচয় দিয়েছেন, তা তাৎপর্যপূর্ণ।
গবেষণা কিংবা উদ্যোক্তা—যে পথই শিক্ষার্থীরা বেছে নিন, সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নীতিগত সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতা দেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সরকার সব সময় পাশে থাকবে।