রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের দুই বছর: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে বাড়ছে উদ্বেগ

ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের দুই বছর: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে বাড়ছে উদ্বেগ
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। তবে এসব কর্মসূচির আবহে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পরও কেন সহিংসতার বাইরে যেতে পারছে না দেশের ছাত্ররাজনীতি?

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে প্রশাসনের ভাষ্য, প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেরোবিতে সংঘর্ষের সূচনা

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। পরে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের এক নেতাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেলেও উত্তেজনা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

বেরোবির ঘটনার পরদিনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় জকসুর ভিপি, জিএস, ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং একজন সাংবাদিক আহত হন।

একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরকে দোষারোপ করে। ছাত্রদলের দাবি, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে।

ঢাকা কলেজেও একই চিত্র

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার প্রস্তুতিকালে ঢাকা কলেজেও মুখোমুখি হয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ব্যানার টানানোর সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, বহিরাগত শিবিরকর্মীরা উসকানিমূলক আচরণ ও হামলার মাধ্যমে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়।

দুই পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এ ঘটনায় উভয় সংগঠনের কয়েক ডজন নেতাকর্মী আহত হন।

ঢাবিতে বিক্ষোভ ও পাল্টা অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল করে। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও সহিংসতার অভিযোগ তোলেন এবং বিচার দাবি করেন।

তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ করছে।

একই ধাঁচের অভিযোগ, ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্পাস

চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উভয় পক্ষ নিজেদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার শিকার দাবি করেছে। কোথাও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কোথাও আলোচনা সভা, আবার কোথাও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তদন্ত কমিটি গঠন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাড়ছে উদ্বেগ

শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। মতভিন্নতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হয়ে দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। এতে একাডেমিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; এটি মুক্তচিন্তা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চারও স্থান। তাই ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে।

প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের ঘোষণা দিলেও অতীতের অনেক ঘটনার মতো এসব তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে শেষ না হলে শাস্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির সময় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিক সংঘর্ষ নতুন করে সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে—উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেই থাকবে, নাকি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংঘাতময় মঞ্চে পরিণত হবে? এর উত্তর নির্ভর করবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬