অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ফের ভারতের ঝাড়খণ্ডে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী। সোমবার রাজ্য বিধানসভা অভিমুখে মিছিল করলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে সকালে রাজধানী রাঁচিতে আসেন। পরে তাঁরা বিধানসভা অভিমুখে মিছিল করেন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতোও ছিলেন। নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কার এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন।
বিক্ষোভের মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সাবেক চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতেককে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য সিআইডি। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২২ জুলাই তিনি পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রবল জলধারার মধ্যেই নাচতে শুরু করেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দৃশ্য নিট আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে রাঁচিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধান প্রধান সংযোগস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ।
শিক্ষার্থীদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে জেলার সীমান্ত, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আজ রাঁচির বেশিরভাগ স্কুল বন্ধ রয়েছে।
জেপিএসসি ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এই আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার-নিযুক্ত একটি প্যানেলের একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারে রাজি করাতে সরকার সফল হয়নি। গতকাল ষষ্ঠ দফার বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি।
শিক্ষার্থীরা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত দাবি করছেন। তাঁরা মোট ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকার তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।
সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। সরকার আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এতে রাজি হননি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন করছেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, লাঠি দিয়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
তবে তাঁর এমন বক্তব্যের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, সরকারের উচিত তাঁদের কথা শোনা এবং সাড়া দেওয়া।