পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি নিরাপত্তা চেকপোস্টে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী ও ১২ জন হামলাকারী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ট্যাঙ্ক জেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, একদল সশস্ত্র হামলাকারী প্রথমে নিরাপত্তা চেকপোস্টে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর বাধার মুখে তারা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে আঘাত করে।
বিস্ফোরণে চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীর ও ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে ১২ জন সেনাসদস্য, দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক বন কর্মকর্তা নিহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১২ জন হামলাকারী নিহত হয়।
টিটিপির দাবি, হামলায় তাদের চারজন আত্মঘাতী সদস্য অংশ নিয়েছিল।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে টিটিপি পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পার্শ্ববর্তী বান্নু জেলায় সংগঠনটির হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সহিংসতায় ১ হাজার ৬২০ জন নিহত হলেও পরের বছরে এ সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩৩১ জনে পৌঁছেছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, টিটিপি আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে দেশটিতে হামলা চালায়। তবে আফগান তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করেছে।
সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আফগান বাহিনীও পাল্টা গুলি চালিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সংঘাতে চলতি বছরে শত শত আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা