রবিবার|বাংলা: ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার তীব্র প্রতিবাদ ভারতীয় মুসলিমদের

‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার তীব্র প্রতিবাদ ভারতীয় মুসলিমদের
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
বন্দে মাতরম’কে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং এর অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। 

বোর্ডের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বোর্ডের মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসিম রাসূল ইলিয়াস এক বিবৃতিতে বলেন, সংসদের উভয় কক্ষে সংশোধনী বিল পাস করে ‘বন্দে মাতরম’কে কার্যত সবার জন্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ধারণা বা বিশ্বাসকে আইনের মাধ্যমে সব নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ভারতের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, ভারতের গণপরিষদ দীর্ঘ আলোচনা শেষে ‘বন্দে মাতরম’-এর শুধু প্রথম দুটি স্তবককে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণ করেছিল। কারণ, পরবর্তী অংশে এমন কিছু ধর্মীয় উপাদান রয়েছে, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ড. ইলিয়াসের ভাষ্য, ‘বন্দে মাতরম’-এর কিছু অংশে মাতৃভূমিকে দেবীর রূপে উপস্থাপন করে তার বন্দনা করা হয়েছে, যা ইসলামের তাওহিদের আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুসলমান একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করে; কোনো সৃষ্টিকে উপাসনার মর্যাদা দেওয়া ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী। 

তাই কোনো মুসলমানকে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এমন কোনো গান, স্লোগান বা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা যায় না।

তিনি ভারতের সংবিধানের ১৯ ও ২৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, এসব অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকার অনুযায়ী কাউকে তার বিবেক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট গান, স্লোগান বা প্রতীক গ্রহণে বাধ্য করা সাংবিধানিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

ড. ইলিয়াস আরও বলেন, দেশপ্রেম এবং দেশের উপাসনা—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। মুসলমানরা দেশকে ভালোবাসাকে ধর্মীয় ও নাগরিক দায়িত্ব মনে করেন, তবে মাতৃভূমিকে দেবী বা উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন না। প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয় কোনো নির্দিষ্ট গান বা স্লোগান উচ্চারণে নয়; বরং দেশ, সংবিধান, জনগণ এবং তাদের অধিকার রক্ষার প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকারে নিহিত।

বিবৃতিতে তিনি ভারতের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন বিভাজনমূলক ইস্যুর পরিবর্তে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক অবিচারের মতো প্রকৃত জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেওয়া উচিত। 

একই সঙ্গে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ভারত গড়তে হলে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কারও দেশপ্রেমকে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। 

উল্লেখ্য, ভারতে ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে এগিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

গত বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় এ লক্ষ্যে আনা ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’সহ ভারতের জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

আইনটি কার্যকর হলে এসব জাতীয় প্রতীকের অবমাননার দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকবে।

এর আগে ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমপর্যায়ের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মোদি সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।

রাজ্যসভায় অনুমোদনের পর বিলটি এখন লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬