প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে জবি ছাত্রদল কর্মীদের ৪০ হাজার টাকা দাবি, ২০ হাজারে মীমাংসা
জবি প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ AM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে জবি ছাত্রদল কর্মীদের ৪০ হাজার টাকা দাবি, ২০ হাজারে মীমাংসা.
রাজধানীর সদরঘাটে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে জবি শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় লঞ্চের কর্মীরা তাঁদের প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মীদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী এক লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হন।তাঁদের মধ্যে ২০ ব্যাচের সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল; ইতিহাস বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাইদ; থিয়েটার বিভাগের ১৮ ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের শের আলী ছিলেন বলে জানা গেছে।সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সামসুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শের আলী ছাত্রদল নেতা জিয়াউদ্দিন বাসিতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের আবারও ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন লঞ্চকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা গেছে। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মুঠোফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে।পরে মুঠোফোন ভাঙা ও চিকিৎসার খরচের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গেছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে প্রায়ই কিছু শিক্ষার্থী সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে মাদক সেবন করেন বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে সোমবারের ঘটনার সূত্রপাত হয়।ওই কর্মী বলেন, ঘটনার পর লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়ে বসা হয়। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, আর্থিক লেনদেনে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি বলতে পারছেন না। তবে বিভিন্ন কারণে টাকা নেওয়া হয়েছে। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করেন, সেটিই তাঁরা চান।লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একসঙ্গে বসা হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া কেউ যেন লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।একপর্যায়ে তাঁদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি কীভাবে মীমাংসা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রাজধানীর সদরঘাটে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে জবি শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় লঞ্চের কর্মীরা তাঁদের প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মীদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী এক লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হন।
তাঁদের মধ্যে ২০ ব্যাচের সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল; ইতিহাস বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাইদ; থিয়েটার বিভাগের ১৮ ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের শের আলী ছিলেন বলে জানা গেছে।
সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সামসুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শের আলী ছাত্রদল নেতা জিয়াউদ্দিন বাসিতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের আবারও ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন লঞ্চকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা গেছে। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মুঠোফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে।
পরে মুঠোফোন ভাঙা ও চিকিৎসার খরচের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গেছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে প্রায়ই কিছু শিক্ষার্থী সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে মাদক সেবন করেন বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে সোমবারের ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ওই কর্মী বলেন, ঘটনার পর লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়ে বসা হয়। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।
‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, আর্থিক লেনদেনে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি বলতে পারছেন না। তবে বিভিন্ন কারণে টাকা নেওয়া হয়েছে। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করেন, সেটিই তাঁরা চান।
লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একসঙ্গে বসা হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া কেউ যেন লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একপর্যায়ে তাঁদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি কীভাবে মীমাংসা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।