সাংবাদিক থেকে রাজা, ৫৬ বছর বয়সে যেভাবে মাথায় উঠল রাজমুকুট
ঢাকা প্রোব ডেস্ক
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ PM
শেয়ার
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
সাংবাদিক থেকে রাজা, ৫৬ বছর বয়সে যেভাবে মাথায় উঠল রাজমুকুট.
দুই দশকের বেশি সময় মাইক্রোফোন হাতে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। মানুষের কথা বলেছেন, খবর পড়েছেন, দেশের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন। ৫৬ বছর বয়সে এসে সেই সাংবাদিকের জীবনেই ঘটল অবিশ্বাস্য পরিবর্তন—মাথায় উঠল রাজমুকুট।তিনি এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা। উগান্ডার ঐতিহাসিক তোরো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে তাঁর নতুন পরিচয়—রাজা প্রথম এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা।গত মাসে ৩৪ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যান তোরোর রাজা চতুর্থ ওয়ে ন্যিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি। তাঁর মৃত্যুর পর নতুন রাজা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তোরোর রীতি অনুযায়ী রাজা নির্বাচনের দায়িত্ব বাবিতো গোত্রের ২১ সদস্যের একটি কমিটির।কিজানাঙ্গোমার পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে রাজা হওয়ার জন্য বিবেচনা করা হয়। তাঁদের একজন ছিলেন যুক্তরাজ্যের একটি অপেশাদার ফুটবল ক্লাবের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক প্রিন্স জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি। তবে তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত কিজানাঙ্গোমাকেই রাজা হিসেবে বেছে নেয় কমিটি।তবে কিজানাঙ্গোমার রাজা হয়ে ওঠার পথ পুরোপুরি বিরোধহীন ছিল না। প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা আকিকি দাবি করেন, তাঁর ছেলে একটি শিশুপুত্র রেখে গেছেন এবং একটি উইলে ওই শিশুকে পরবর্তী রাজা করার কথা ছিল। তবে ওই শিশুকে প্রকাশ্যে আনা হয়নি এবং রাজপরিবারের উত্তরাধিকার কমিটি তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। কমিটির দাবি, তোরোর রীতি ও ঐতিহ্য মেনেই কিজানাঙ্গোমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।কিজানাঙ্গোমা নিজেও রাজপরিবারেরই বংশধর। তিনি ওয়ে রুকিডির চাচাতো ভাই এবং দুজনই তোরোর ১১তম রাজা রুকিডি তৃতীয়ের নাতি।কিজানাঙ্গোমার জন্ম ১৯৭০ সালে। ১৯৯৯ সালে উগান্ডার মেকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর শুরু করেন সাংবাদিকতা। দুই দশকের বেশি সময় সম্প্রচারমাধ্যমে কাজ করেছেন। উগান্ডা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (ইউবিসি) পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। প্রতিবেশী রুয়ান্ডাতেও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন।সাংবাদিকতার ২১ বছরের অভিজ্ঞতা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা যোগাযোগ এখন রাজা হিসেবে কাজে লাগাতে চান কিজানাঙ্গোমা। তাঁর ভাষায়, এই সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা তিনি ‘মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে’ কাজে লাগাবেন।তোরো রাজ্যে রাজা হওয়া শুধু মুকুট পরার বিষয় নয়। ঐতিহ্যবাহী নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কিজানাঙ্গোমার অভিষেক হয়। প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছানোর পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ঘোষণা ও অভিষিক্ত করা হয়।উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজাদের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে তাঁদের সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনুগত্য রয়েছে।রাজা হওয়ার পর কিজানাঙ্গোমা বলেছেন, তিনি একা কাজ করতে চান না। তাঁর কথায়, “তাঁরা আমাকে রাজা হিসেবে এই উপাধি দিয়েছেন। কিন্তু আমি একা কাজ করতে পারব না। আমাকে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।”এভাবেই মাইক্রোফোন হাতে মানুষের গল্প বলা এক সাংবাদিকের হাতে উঠে এসেছে রাজদণ্ড।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
দুই দশকের বেশি সময় মাইক্রোফোন হাতে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। মানুষের কথা বলেছেন, খবর পড়েছেন, দেশের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন। ৫৬ বছর বয়সে এসে সেই সাংবাদিকের জীবনেই ঘটল অবিশ্বাস্য পরিবর্তন—মাথায় উঠল রাজমুকুট।
তিনি এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা। উগান্ডার ঐতিহাসিক তোরো রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে তাঁর নতুন পরিচয়—রাজা প্রথম এডওয়ার্ড রুকিডি কিজানাঙ্গোমা।
গত মাসে ৩৪ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যান তোরোর রাজা চতুর্থ ওয়ে ন্যিম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি। তাঁর মৃত্যুর পর নতুন রাজা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তোরোর রীতি অনুযায়ী রাজা নির্বাচনের দায়িত্ব বাবিতো গোত্রের ২১ সদস্যের একটি কমিটির।
কিজানাঙ্গোমার পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে রাজা হওয়ার জন্য বিবেচনা করা হয়। তাঁদের একজন ছিলেন যুক্তরাজ্যের একটি অপেশাদার ফুটবল ক্লাবের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক প্রিন্স জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি। তবে তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত কিজানাঙ্গোমাকেই রাজা হিসেবে বেছে নেয় কমিটি।
তবে কিজানাঙ্গোমার রাজা হয়ে ওঠার পথ পুরোপুরি বিরোধহীন ছিল না। প্রয়াত রাজা ওয়ের মা রানি বেস্ট কেমিগিসা আকিকি দাবি করেন, তাঁর ছেলে একটি শিশুপুত্র রেখে গেছেন এবং একটি উইলে ওই শিশুকে পরবর্তী রাজা করার কথা ছিল। তবে ওই শিশুকে প্রকাশ্যে আনা হয়নি এবং রাজপরিবারের উত্তরাধিকার কমিটি তাকে স্বীকৃতি দেয়নি। কমিটির দাবি, তোরোর রীতি ও ঐতিহ্য মেনেই কিজানাঙ্গোমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
কিজানাঙ্গোমা নিজেও রাজপরিবারেরই বংশধর। তিনি ওয়ে রুকিডির চাচাতো ভাই এবং দুজনই তোরোর ১১তম রাজা রুকিডি তৃতীয়ের নাতি।
কিজানাঙ্গোমার জন্ম ১৯৭০ সালে। ১৯৯৯ সালে উগান্ডার মেকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর শুরু করেন সাংবাদিকতা। দুই দশকের বেশি সময় সম্প্রচারমাধ্যমে কাজ করেছেন। উগান্ডা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (ইউবিসি) পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। প্রতিবেশী রুয়ান্ডাতেও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন।
সাংবাদিকতার ২১ বছরের অভিজ্ঞতা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা যোগাযোগ এখন রাজা হিসেবে কাজে লাগাতে চান কিজানাঙ্গোমা। তাঁর ভাষায়, এই সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা তিনি ‘মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে’ কাজে লাগাবেন।
তোরো রাজ্যে রাজা হওয়া শুধু মুকুট পরার বিষয় নয়। ঐতিহ্যবাহী নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কিজানাঙ্গোমার অভিষেক হয়। প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে সরকারি কারুজিকা রাজপ্রাসাদে পৌঁছানোর পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ঘোষণা ও অভিষিক্ত করা হয়।
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী রাজাদের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। তবে তাঁদের সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে এবং নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনুগত্য রয়েছে।
রাজা হওয়ার পর কিজানাঙ্গোমা বলেছেন, তিনি একা কাজ করতে চান না। তাঁর কথায়, “তাঁরা আমাকে রাজা হিসেবে এই উপাধি দিয়েছেন। কিন্তু আমি একা কাজ করতে পারব না। আমাকে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।”
এভাবেই মাইক্রোফোন হাতে মানুষের গল্প বলা এক সাংবাদিকের হাতে উঠে এসেছে রাজদণ্ড।