সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে বের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রুমেন আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে ভবনের সামনের কালেক্টরেটের প্রবেশমুখী সড়কে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন।
পরে রুমেন ভবন থেকে বের হলে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন আহমদ তাকে মোটরসাইকেলে করে সুনামগঞ্জ সদর থানার দিকে নিয়ে যান। তাদের সঙ্গে ডিবি পুলিশের একটি দলও থানার দিকে যায়। থানার সামনে পৌঁছে রুমেন মোটরসাইকেল থেকে নামার পর পুলিশ তাকে ঘিরে থানার ভেতরে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম সেফু বলেন, “সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেনকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অথচ ওই ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
তিনি বলেন, গতকাল তিনি আইনজীবী সমিতির ভবনে বসে ছিলেন। সন্ধ্যার পরপরই সেখানে পুলিশের একটি দল গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাধ্য করে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
অ্যাডভোকেট সেফু আরও বলেন, আজ বিলম্বে তাকে আদালতে নিয়ে আসায় আমরা জামিনের আবেদন করার সুযোগ পাইনি। আগামীকাল আমরা তার জামিনের আবেদন করব। আমরা আশা করি, বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।”
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলার সূত্রেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খায়রুল কবির রুমেনের পিতা প্রয়াত আব্দুর রইছ সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। তার মাতা মরহুমা রফিকা রইস চৌধুরী কার্যক্রম নিষিদ্ধ সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাদের স্থায়ী নিবাস সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে।
অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন ১৯৯৭ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য। কর্মজীবনে তিনি তিনবার সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের বড় ভাই। ২০২২ সালের সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নুরুল হুদা মুকুটের কাছে পরাজিত হন তিনি।