বুধবারবাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু
ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি-সমীকরণে এবার চীনকে চান জেলেনস্কি

ট্রাম্প–শি আলোচনায় মস্কোর ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব কতটা?

ট্রাম্প–শি আলোচনায় মস্কোর ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব কতটা?
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রভাব ব্যবহার করে রাশিয়াকে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় আনতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প–শি বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে তিনি তখনও হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাননি।

জেলেনস্কির এই বক্তব্যের তাৎপর্য আরও বেড়েছে, কারণ ট্রাম্প ও শি ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন এবং ইউক্রেন সংকট তাঁদের আলোচনার অন্যতম আন্তর্জাতিক বিষয় ছিল। চীনের সরকারি বিবরণে বলা হয়েছে, দুই নেতা ইউক্রেন সংকট, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠকে কী ধরনের নির্দিষ্ট সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

জেলেনস্কি এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরই শি জিনপিংকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল যুক্তি ছিল, বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় চীন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার দিকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে জেলেনস্কির এই বক্তব্যকে চীনের হাতে রাশিয়ার ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে—এমন দাবি হিসেবে দেখা যায় না।

এখানেই ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান কূটনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে। চীন রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। একই সময়ে বেইজিং নিজেকে যুদ্ধের কোনো সরাসরি পক্ষ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক সমাধান ও আলোচনার পক্ষে অবস্থানকারী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে আসছে। ফলে কিয়েভের কাছে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বেইজিংয়ের নিজস্ব কূটনৈতিক ও কৌশলগত হিসাবও এই সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জেলেনস্কি নিজেও এর আগে বলেছেন যে তিনি এখনো এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ দেখছেন না যে চীন রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, রাশিয়ার ওপর চীনের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং বেইজিং চাইলে মস্কোকে আলোচনার দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ আছে। এই দুই বক্তব্য পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়—কিয়েভ চীনের সম্ভাব্য leverage-কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে, কিন্তু সেই প্রভাব ইতিমধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর হয়েছে—এমন দাবি করছে না।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কূটনৈতিক পথ পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন দফার আলোচনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন–রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনাও সামনে এনেছিল। তবে নতুন বৈঠকের তারিখ, কাঠামো ও আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতাও পাশাপাশি চলছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং জ্বালানি অবকাঠামো, কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্য ও শীতকালীন জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ওয়াশিংটনের আলোচনায় তাই শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা কমানো এবং কৃষ্ণসাগরীয় শস্য পরিবহন পুনরুজ্জীবিত করার মতো সীমিত পদক্ষেপও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে চীনকে শান্তি-প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বেইজিং কি মস্কোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ব্যবহার করে পুতিনকে বাস্তব ছাড় দিতে রাজি করাতে পারবে, নাকি চীন মূলত নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখবে? একইভাবে ওয়াশিংটনের চাপ, কিয়েভের নিরাপত্তা-চাহিদা এবং মস্কোর যুদ্ধ ও ভূখণ্ডসংক্রান্ত অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোও সহজ হবে না।

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক মানচিত্রে এখন ওয়াশিংটন, বেইজিং ও মস্কোর পাশাপাশি সম্ভাব্য আলোচনার ভেন্যু হিসেবে আবুধাবিও গুরুত্ব পাচ্ছে। জেলেনস্কির আহ্বান চীনের সম্ভাব্য প্রভাবকে নতুন করে সামনে এনেছে; কিন্তু ট্রাম্প–শি বৈঠক থেকে ইউক্রেন বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য চূড়ান্ত সমঝোতা না আসায় বেইজিংয়ের ভূমিকার বাস্তব ফলাফল এখনো অপেক্ষমাণ।

আগামী পর্যায়ে মূল প্রশ্ন হবে—ট্রাম্প প্রশাসন কি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগকে রাশিয়াকে আলোচনায় আনার জন্য ব্যবহার করতে পারবে, এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন আলোচনা আদৌ শুরু হয় কি না। এসব উদ্যোগ বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ নিলে ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক পরিসর বাড়তে পারে; আর তা না হলে ওয়াশিংটন–বেইজিং যোগাযোগ ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা আবারও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
রাজৈরে ইয়াবাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা

রাজৈরে ইয়াবাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত: ডা. জুবাইদা রহমান

শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত: ডা. জুবাইদা রহমান

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
আরও তীব্র হচ্ছে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, চাপে সরকার

আরও তীব্র হচ্ছে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, চাপে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে চায় টয়োটা

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে চায় টয়োটা

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।