ইরাকের কুর্দি ঘাঁটিতে ফের ইরানের হামলার অভিযোগ.
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো হামলার অভিযোগ উঠেছে। কুর্দি সংগঠনগুলোর দাবি, সর্বশেষ হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে) জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন এরবিল-দুহক সড়কের পাশে তাদের চামশার ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা করলে সেটি প্রতিহত করা হয়। ঘাঁটিটি এরবিলের উত্তরে দারাশাকরান উপজেলার কাছে অবস্থিত।পিএকের নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য রেবাজ শরিফি কুর্দি সম্প্রচারমাধ্যম রুদাওকে বলেন, ড্রোনটি ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠী’ উৎক্ষেপণ করেছে বলে তারা মনে করছেন। তবে হামলার চেষ্টায় কেউ হতাহত হননি।এর আগে মঙ্গলবারও একই এলাকায় পিএকের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। পিএকের দাবি, চামশার ঘাঁটিতে পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়।বালিসানেও ড্রোন হামলার অভিযোগইরানের কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপিআই) জানিয়েছে, এরবিলের উত্তর-পূর্বে বালিসান এলাকায় তাদের একটি ঘাঁটিতে বুধবার একটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন আঘাত হানে।কেডিপিআইকে ইরানের অন্যতম বড় কুর্দি ভিন্নমতাবলম্বী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির ঘাঁটি ও পরিবারকেন্দ্রিক ক্যাম্প অতীতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছে।ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কমালা ক্যাম্পসর্বশেষ হামলাগুলোর আগে সোমবার দক্ষিণ সুলাইমানিয়া প্রদেশের জিরগুয়েজ এলাকায় ইরানি কুর্দি সংগঠন কমালার সদস্যদের পরিবারের জন্য ব্যবহৃত একটি ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।কমালার এক কর্মকর্তা রুদাওকে জানান, ভোররাতে ক্যাম্পটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ক্যাম্পের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হননি।এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি একই এলাকায় কমালার সদর দফতরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সংগঠনটি।দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের লক্ষ্য কুর্দি গোষ্ঠীগুলোইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী সংগঠনগুলোর সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ইরান এসব গোষ্ঠীকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও ইরানের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তির পর এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়। এরপরও তাদের ঘাঁটি ও ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।সংঘাতের বাইরে থাকতে চায় কুর্দিস্তানইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) আঞ্চলিক সংঘাতে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বারবার জানিয়েছে। কুর্দিস্তান অঞ্চলে হামলা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছেন অঞ্চলটির প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি।তবে ইরান ও ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে কুর্দিস্তান অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হামলার অভিযোগ সেই উত্তেজনাকেই সামনে এনেছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো হামলার অভিযোগ উঠেছে। কুর্দি সংগঠনগুলোর দাবি, সর্বশেষ হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে) জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন এরবিল-দুহক সড়কের পাশে তাদের চামশার ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা করলে সেটি প্রতিহত করা হয়। ঘাঁটিটি এরবিলের উত্তরে দারাশাকরান উপজেলার কাছে অবস্থিত।
পিএকের নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য রেবাজ শরিফি কুর্দি সম্প্রচারমাধ্যম রুদাওকে বলেন, ড্রোনটি ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠী’ উৎক্ষেপণ করেছে বলে তারা মনে করছেন। তবে হামলার চেষ্টায় কেউ হতাহত হননি।
এর আগে মঙ্গলবারও একই এলাকায় পিএকের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। পিএকের দাবি, চামশার ঘাঁটিতে পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়।
বালিসানেও ড্রোন হামলার অভিযোগ
ইরানের কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপিআই) জানিয়েছে, এরবিলের উত্তর-পূর্বে বালিসান এলাকায় তাদের একটি ঘাঁটিতে বুধবার একটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন আঘাত হানে।
কেডিপিআইকে ইরানের অন্যতম বড় কুর্দি ভিন্নমতাবলম্বী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির ঘাঁটি ও পরিবারকেন্দ্রিক ক্যাম্প অতীতেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কমালা ক্যাম্প
সর্বশেষ হামলাগুলোর আগে সোমবার দক্ষিণ সুলাইমানিয়া প্রদেশের জিরগুয়েজ এলাকায় ইরানি কুর্দি সংগঠন কমালার সদস্যদের পরিবারের জন্য ব্যবহৃত একটি ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
কমালার এক কর্মকর্তা রুদাওকে জানান, ভোররাতে ক্যাম্পটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ক্যাম্পের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হননি।
এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি একই এলাকায় কমালার সদর দফতরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সংগঠনটি।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের লক্ষ্য কুর্দি গোষ্ঠীগুলো
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী সংগঠনগুলোর সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ইরান এসব গোষ্ঠীকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও ইরানের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তির পর এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে কুর্দিস্তান অঞ্চলের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়। এরপরও তাদের ঘাঁটি ও ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সংঘাতের বাইরে থাকতে চায় কুর্দিস্তান
ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) আঞ্চলিক সংঘাতে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বারবার জানিয়েছে। কুর্দিস্তান অঞ্চলে হামলা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছেন অঞ্চলটির প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি।
তবে ইরান ও ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে কুর্দিস্তান অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হামলার অভিযোগ সেই উত্তেজনাকেই সামনে এনেছে।